বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্যবসা সহজীকরণ সূচক শ্লথের শঙ্কা




সার্বিক পরিস্থিতির ওপর করোনার প্রভাব পড়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) সূচকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হবে না-এমন আশঙ্কা করেছে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। সম্প্রতি কমিটির বৈঠকে এ শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য নানা ধরনের সংস্কার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পড়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর। কিন্তু সংস্কার কার্যক্রমে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। যদিও বিদেশি বিনিয়োগের নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে এই সংস্কার কর্মসূচি। সেখানে ব্যবসার পরিবেশ সূচকে আরও উন্নতি করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৬টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

প্রসঙ্গত ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (ব্যবসা সহজ করা) সূচকে কোন দেশের অবস্থান কতটুকু-এ নিয়ে প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা ৯৯তম স্থানে নামিয়ে আনার ঘোষণা করেছে সরকার। গত বছর ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দু’ধাপ অগ্রগতি হয়ে ১৬৮তম অবস্থানে পৌঁছেছে। এসব সূচকে আরও উন্নতি করতে গত ২০ আগস্ট ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এর আগে গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই কমিটি শেষ বৈঠক করে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীদার হিসেবে বিশ্ব থেকে পিছিয়ে থেকে আমরা অর্থনীতিতে অগ্রসর হতে পারব না। সবার সম্মিলিত প্রয়াস পারে আমাদেরকে বৈশ্বিক ব্যবসার সূচকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে। ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে আমাদের অবস্থা আরও অনেক ধাপ এগিয়ে নিতে হবে। অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের অগ্রগতির জন্য এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংস্থার প্রধানদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এটি পর্যালোচনার জন্য আরও একটি বৈঠক আহ্বান করেন।

জানা গেছে, এর আগে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে (ডুয়িং বিজনেস) উন্নতি করতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) পক্ষ থেকে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশকে দুই অঙ্কের ঘরে (৯৯তম) আনতে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদফতরে হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে বির্ডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের সংস্কার কর্মসূচির অনেক কিছুই সম্পন্ন করতে পারে নাই। ফলে এ বছর ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে প্রত্যাশিত উন্নতি নাও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিডার গভর্নিং বোর্ডের দ্বিতীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসা সহজীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সূচকের অবস্থান দুই অঙ্কে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সহযোগিতায় বিডা এ সংক্রান্ত একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাক্স কমানো হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার ত্রৈ-মাসিক ট্যাক্স নেয়া হলে তা প্রদানকারীর ওপর বোঝা হতে পারে। এ ব্যক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত এবং যৌথ মূলধনী ফার্মসমূহে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে ট্যাক্স কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে, যা সংখ্যার বিবেচনায় অনেক কম। ফলে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আয় খুব বেশি কমবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের উন্নতি ঘটাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বিশেষ করে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। তবে পরিকল্পিত শিল্প এলাকার ওয়্যার হাউসের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

বৈঠকে নেয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত: ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের উন্নতি করতে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য কাজের নাম, কার মাধ্যমে কাজটি হবে, মনিটরিং কর্তৃপক্ষ ও চূড়ান্তভাবে কাজটি শেষ হয়েছে মর্মে প্রত্যয়নকারীর নামসহ একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই ছকে কাজের জন্য কত স্কোর পাওয়া যাবে সেটি বলে দিতে হবে। সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়, অপেক্ষাকৃত কম সময়ে যে কাজ করা যাবে এবং যে কাজের স্কোর বেশি পাওয়া যাবে তা উল্লেখ করতে বলা হয়। আর এই কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংস্থার প্রধানদের আরও একটি বৈঠকে বসে চূড়ান্ত করতে বলা হয়।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: