বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভাবনার পাটাতনে শান দিয়ে আসি




মোহাম্মদ আব্দুল হক

বেশি শব্দ প্রয়োগ করতে হবে না। চলুন অল্প কথায় ভাবনার পাটাতনে দৌড়াই। আপন ভাবনার পাটাতনে শান দিয়ে ঘুরে আসি। চলেন তবে হিসেবটা দেখে আসি। আর খুঁজে পেতে চেষ্টা করি এই ভাবনার প্রকৃত সমাধান কী? এখানে একটি কথা বলে রাখছি, দীর্ঘদিন ধরে কোনো কিছু কথিত আছে বলে যে, ওই বিষয়টি ভুল নাকি শুদ্ধভাবে চলে এসেছে তা যে এখন আর ভাবনার বিষয় নয়, এমন কোনো কথা নেই। আবার এতোদিন কেউ ভাবেনি বলে যে এখনও কেউ ভাববেন না কিংবা ভবিষ্যতে আরো আরো প্রচলিত বিষয় নিয়ে কেউ ভাবতে বসবেন না, তা-ও কিন্তু কখনো নিশ্চিত করে বলা যায় না। মানুষ চিন্তা শক্তি সম্পন্ন। যার মস্তিষ্কে প্রশ্ন জাগ্রত হবে সে তার মস্তিষ্কের মিলিয়ন মিলিয়ন নিউরন ঘেঁটে উত্তর খুঁজে ফিরবে। মানুষ সবসময় চিন্তা করবে এবং সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করবে নিরন্তর।
বাংলাদেশে তিনটি বর্ষের হিসাব চলে এসেছে যুগ যুগের পথে। এগুলো হলো ইংরেজি বর্ষ, হিজরি বর্ষ এবং বাংলা বর্ষ। আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে মিলিয়ে তিনটি বর্ষের গুরুত্ব এ অঞ্চলে অনস্বীকার্য। তবে ব্যাপকভাবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এখন ইংরেজি বর্ষ প্রায় সর্বাবস্থায় গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। অতএব ইংরেজি বর্ষের হিসাব আমাদের প্রতিদিন রাখতে হয়। তাই আলোচনায় থাকবে ইংরেজি বর্ষ। এখানে ইংরেজি বর্ষ কিভাবে এলো এর শত শত বছরের ইতিহাস মূখ্য নয়। তারপরও আমরা জানি, ইংরেজি বর্ষ এসেছে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির পথ ধরে। গ্রেগরীয় বর্ষ মূলত সৌরবর্ষ। আমরা এখন যে ইংরেজি বর্ষ পালন করে চলি, তা এসেছে পুরনো আমলের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। এর ইতিহাস দীর্ঘ। এসব আলোচনায় না গিয়ে আমরা আলোচনা করবো ইংরেজি বর্ষের দশক এবং শতক বা শতাব্দীর বিষয়ে।
আমরা জানি, শতাব্দী হলো শত অব্দের সমাহার। এখানে একশত বছরে এক শতাব্দীর হিসাব হয়। প্রত্যেক শতাব্দীতে দশটি দশক। সে হিসেবে নামতা পড়ি, দশ দশে একশো। এইযে আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন আমাদের বহুল প্রচলিত ইংলিশ ক্যালন্ডারের পাতায় দেখতে পাচ্ছি, আজকের তারিখ হচ্ছে ২১ জানুয়ারি ২০২১ খ্রীষ্টিয় সাল। অতএব এখন চলছে ইংলিশ ক্যালেন্ডারের একবিংশ শতাব্দীর ৩০ এর দশক। জানি অনেকেরই, এখানে আমার উক্ত শতাব্দীর হিসাব মেনে নিলেও দশকের হিসাবে খটকা লাগছে। আসুন মস্তিষ্কের মনোযোগ আকর্ষণ করে পড়ি আর ভাবতে থাকি।

কাছাকাছি শতকের উদাহরণ এখানে তুলে ধরলাম। দেখুন, উনবিংশ শতাব্দীর সময়ের সীমানা হচ্ছে ১ জানুয়ারি ১৮০১ খ্রীষ্টিয় সাল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯০০ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত। আবার একইভাবে, বিংশ শতাব্দী বা বিশ শতক বলতে আমরা বুঝি ১ জানুয়ারি ১৯০১ সাল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়। এখানে শতাব্দীতে দশটি দশক চিহ্নিত হয়েছে স্পষ্ট ভাবে, প্রথম দশক বা ১০ এর দশক থেকে শুরু হয়ে ২০ এর দশক, ত্রিশ এর দশক, চল্লিশ এর দশক, পঞ্চাশ এর দশক, ষাট এর দশক, সত্তর এর দশক, আশি এর দশক নব্বই এর দশক এবং শেষ দশক পর্যন্ত। আশা করি এ হিসাব মনে রেখে সম্পূর্ণ লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে শেষ করবেন।

প্রিয় ধীমান ও ধীমতী পাঠক পাঠিকা, যেহেতু দশকের হিসাবে দশটি করে বছর বা বৎসর পাই, কাজেই প্রতিটি দশকের সময়ের সীমানাও উপরোক্ত শতাব্দীর সময়ের সীমানার মতোই গুনতে হবে। তাই আমি মনে করি, সে হিসেবে দশকের গণনা হবে, উদাহরণ স্বরূপ : বিংশ শতাব্দীর ৬০ এর দশক বলতে বুঝতে হবে ১৯৫১ খ্রীষ্টিয় সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬০ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত। আবার বিংশ শতাব্দীর ৮০ এর দশক বললে হবে ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮০ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত। আর আমরা এভাবেই যদি লিখতে থাকি, তাহলে বিংশ শতকের প্রথম দশক বা ১০ এর দশকের গণনা করতে হবে এরকম – ১ জানুয়ারি ১৯০১ থেকে ১৯১০ খ্রীষ্টিয় সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এভাবে আমার ভাবনায় ফলাফল পাই, উপরোক্ত আলোচনা মতেই, পর্যায়ক্রমে ২০ এর দশক, ৩০ দশক, ৪০ দশক, ৫০ দশক, ৬০ দশক, ৭০ দশক, ৮০ দশক, ৯০ এর দশক গুনতে হবে। তখন বিংশ শতকের শেষ দশক যা ১ জানুয়ারি ১৯৯১ খ্রীষ্টিয় থেকে শুরু হয়ে ২০০০ খ্রীষ্টিয় সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে। তাই আজকের এই সময়ে আমি যখন এই লেখাটি লিখছি, তখন আজকের এই ২১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখটিকে আমি স্পষ্ট ভাবে বলছি, এটি একবিংশ শতাব্দীর ত্রিশ দশকের সীমায় আছে। তাহলে আমি বলতে পারি একবিংশ শতাব্দীর ত্রিশ দশকের শেষ দিন হব ৩১ ডিসেম্বর ২০৩০ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় একবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের সীমা হবে ২০৯১ খ্রীষ্টিয় সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২১০০ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত।
কিন্তু প্রচলিত আছে ৮০ দশক বুঝতে হবে ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। এভাবেই যদি ৯০ এর দশক গণনা করি, তবে সময়ের সীমা পাই ১৯৯০ খ্রীষ্টিয় সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ খ্রীষ্টিয় সাল। এখন আমরা শেষ দশকের বাৎসরিক হিসাবের সময়ের সীমানা কোনটা ধরবো? নিশ্চয়ই আমরা পরবর্তী শতকের ঘরে গিয়ে পূর্ববর্তী শতকের শেষ দশককে খুঁজতে পারি না। একই ভাবে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম নয়টি বৎসর বাদ দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক গুনতে পারি না। তাহলে শতাব্দীর শুরু এবং শেষ দশকের সীমা কোনটি দাঁড়ায়? দশকের এই এতোদিনের প্রচলিত হিসাবটি কি ভুল নয়? ভাবতে হবে এখানেই।
আমি মনে করি, আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে। আমি এই প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় এই হিসাবটি পর্যালোচনার জন্যে বিশেষজ্ঞদের বিনীত আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমি এ-ও বিশ্বাস করি যে, এতোদিন ধরে চলে এসেছে বলে নিশ্চয়ই আমাদের ভাবনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতে পারি না। তাই আসুন, ভাবনার পাটাতনে শান দিয়ে আসি। হ্যাঁ, আমাদেরকে সচেতন ভাবে সকল বিষয়ে ভাবতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে এগিয়ে যেতে হবে। সকলের মননের বিকাশ ঘটুক।।
#
মোহাম্মদ আব্দুল হক:
কলামিস্ট ও সাহিত্যিক

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: