বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্মরণে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান




মোহাম্মদ আব্দুল হক

স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের কাছে জিয়াউর রহমান নামটি উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে প্রথমেই একজন সাহসী বীর সৈনিকের চেহারা ফুটে উঠে। হ্যাঁ, সময়ের সাহসী সন্তানেরা মানুষের ভালোবাসা পেয়ে ইতিহাসে বরণীয় মানুষ হিসেবে জায়গা পায়। ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের একেবারে প্রথম অধ্যায়ে যখন তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে বন্দী করে বাঙালিকে নেতৃত্বহীন করে মানসিক ভাবে দুর্বল করে দিয়েছিলো, ঠিক সেই সময়ে রেডিওতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিয়ে শোনা একজন সাহসী আর্মি অফিসারের জোরালো আওয়াজ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত দিশাহারা বাঙালিকে উজ্জীবিত করেছিলো। দেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কয়েক বছর পরে, এই সাহসী মানুষটিকেই জাতির এক দুঃসময়ে দেশের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যে এগিয়ে আসতে দেখে এবং নিঃসন্দেহে অস্থির সময়ে এই মানুষটিকে দেশের মানুষ গ্রহণ করেছিলো। হ্যাঁ, মানুষ তাঁকে ভালোবেসে গ্রহণ করে নেয় ; কারণ, এদেশের মানুষ তখনও স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ের রেডিওতে শোনা বিশ্বস্ত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তৎকালীন মেজর জিয়াকে ভুলেনি। এই সাহসী মানুষটি পরবর্তীতে ১৯৭৭ – ১৯৮১ খ্রীষ্টিয় সময় কালে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এখানে মানুষের ভালোবাসার উপাখ্যান আছে, সাহসী ইতিহাস আছে, দেশপ্রেম আছে, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনীতির গল্প আছে। এমন ইতিহাসের পথে হেঁটে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরণীয় হয়েছেন। এখানে রাজনৈতিক ভাবে দলীয় প্রতিপক্ষের কথাবার্তা বাদ দিলে, অস্বীকার করার উপায় নাই যে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা হয়ে উঠেছেন। জনপ্রিয় বা জননন্দিত নেতা-তো মানুষের ভালোবাসা না-পেয়ে হওয়া যায় না। এদেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়ে তিনি সাহসী সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে হয়েছেন দেশনেতা। জিয়াউর রহমান দেশনেতা হয়ে উঠার পিছনে নিঃসন্দেহে তাঁর মেধা এবং সততা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁর চালিকাশক্তি হিসেবে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলো।

এখানে একজন জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে বলার সুযোগ নেই, কারণ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে এক মহাকাব্যের নায়ক হয়ে ফুটে আছেন দেশে ও বিদেশে। তাঁর সারা জীবন নিয়ে পূর্ণ রূপে উপস্থাপন করতে হলে বিশাল এক গ্রন্থ রচনা করলেও অপূর্ণ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যাবে। তাই বাংলাদেশের একজন খাঁটি দেশপ্রেমিকের কথা এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে বলবো। হ্যাঁ, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সন্তান। তিনি ১৯৩৬ খ্রীষ্টিয় সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম ছিলো কমল। তাঁর পিতার নাম মনসুর রহমান এবং মায়ের নাম জাহানারা খাতুন ( রাণী)। তাঁর পিতা তৎকালীন বৃটিশ ভারতের কলকাতা শহরের এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর শৈশবের প্রথম দিকে কিছুটা কাল কেটেছে বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতার নগর জীবনে। তাঁর পিতা চাকরি করতেন, তাই তিনিও পিতার সাথে থাকতেন এবং সেখানে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তখন কলকাতার হেয়ার স্কুলে তিনি পড়াশোনা করতেন। কিন্তু তৎকালীন বৃটিশ – ভারতের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের নানানরকম ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ খ্রীষ্টিয় সালের দেশ বিভাগের পরে অর্থাৎ ভারতবর্ষ ভারত ও পাকিস্তান দুই নামে দুটি পৃথক দেশ হিসেবে ভাগ হওয়ার পরে তাঁর পিতা কলকাতা শহর ছেড়ে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচী নগরীতে চলে যান এবং সেখানেই জিয়াউর রহমান করাচী একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। জানা যায়, ওই করাচী একাডেমি স্কুল থেকেই তিনি ১৯৫২ খ্রীষ্টিয় সালে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর তিনি কলেজে ভর্তি হন ১৯৫৩ খ্রীষ্টিয় সালে করাচীর ডি.জে. কলেজে। জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাহসী ও মেধাবী ছিলেন। একই বছর তিনি পাকিস্তানের কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে চাকরিতে যোগ দান করেন। তিনি তাঁর মনোযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষতা দেখিয়ে ১৯৫৫ খ্রীষ্টিয় সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। দেখা যায় জিয়াউর রহমান প্রথম থেকেই সকল ক্ষেত্রে তাঁর মেধা খাটিয়ে নিজেকে যোগ্য করে তুলেছেন এবং দক্ষতা দ্বারা সুনাম অর্জন করে এগিয়েছেন বীরের বেশে। তিনি ছিলেন সামরিক বাহিনীতে একজন বিচক্ষণ প্যারাট্রুপার এবং কমান্ডো। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর দক্ষতা দেখিয়ে অল্প সময়ে সেনাবাহিনীর অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের মাঝে সুপরিচিত একজন হয়ে উঠেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে ভর্তি হন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে চলার পথ তৈরি করেন। জিয়াউর রহমান এভাবে দুই বছর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে সুনাম ও সাহসিকতা দুটোর সংমিশ্রণে চাকরি করেন। এখানে উল্লেখ করছি, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠা বাংলার সন্তানদের কাছে হয়তো প্রশ্ন জাগ্রত হতে পারে, বারবার কেন পশ্চিম পাকিস্তানকে ঘিরে কথা হচ্ছে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে। প্রকৃত অর্থে আমরা তখন পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাগরিক। এমনকি ১৯৭০ খ্রীষ্টিয় সালের সাধারণ নির্বাচন-ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের ছিলো যেখানে আমরা বাঙালিরা বিপুল ভোটে বিপুল আসনে জয়ী হয়েছিলাম। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশের ইতিহাস পড়তে হবে। সে যা-ই হোক। সৈনিকের জীবন থেমে থাকার নয়। এরপর তিনি ১৯৫৭ খ্রীষ্টিয় সালে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। প্রতি ধাপে শিখতে শিখতে এগিয়েছেন এবং ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করেনি। আমরা দেখি, ১৯৫৯ খ্রীষ্টিয় সাল থেকে ১৯৬৪ খ্রীষ্টিয় সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগেও কাজ করেছেন। এভাবেই একজন বীর বাঙালি সৈনিক জাতির প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্যে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছেন জীবনের বাঁকে বাঁকে এবং সৈনিকের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে অংশ গ্রহণ করে সফলতা নিয়ে ফিরেছেন। যারা ইতিহাসের খোঁজ রাখেন তাদের জানা আছে ১৯৬৫ খ্রীষ্টিয় সালের ভারত ও পাকিস্তানের ভয়াবহ সেই যুদ্ধের কথা। তৎকালীন ঐতিহাসিক ওই যুদ্ধে বাঙালির রক্তে মাংসে গড়া আমাদের জিয়াউর রহমান একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে তাঁর জীবনের অসীম সাহস নিয়ে খেমকারান সেক্টরে যুদ্ধ পরিচালনা করে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন তা ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। ওই যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার পরিচয় পেয়ে পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে।
প্রিয় পাঠক, এখানে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে লেখা মূলত সময়ে একজন বাঙালি সৈনিকের সাহসী ভূমিকাকে স্মরণ করা, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিচক্ষণতার প্রমাণ দেয়া একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরণ করা, বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করা। একজন বীর সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নেতা হঠাৎ এসেই কোটি কোটি বাঙালির প্রাণের মানুষ হয়ে উঠেননি। কোনো মানুষকে মানুষের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে হয়ে উঠার পিছনে থাকে সাহস, কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠতা, সততা, দেশপ্রেম এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালবাসা। এসব গুণাবলী একজন মানুষকে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের আপন মানুষ হতে সাহায্য করে। জিয়াউর রহমানের মধ্যে মানুষের মন জয় করে গণমানুষের নেতা হয়ে উঠার গুণাবলী ছিলো। তাই বাংলাদেশের মানুষের মাঝে তিনি অতি আপনজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। এবার আমরা আরেকটু এগিয়ে দেখি, ভারত ও  পাকিস্তানের যুদ্ধের পর হিলাল-ই-জুরাত খেতাব পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান ১৯৬৯ খ্রীষ্টিয় সালে সেনাবাহিনীর মেজর পদে উন্নিত হন। জিয়াউর রহমান জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন – কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর তিনি নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অ্যাডভান্সড মিলিটারি অ্যান্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্যে পশ্চিম জার্মানিতে গিয়েছিলেন এবং কয়েক মাস বৃটিশ আর্মির সঙ্গেও কাজ করেন। বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান ১৯৭০ খ্রীষ্টিয় সালে একজন মেজর হিসেবে দেশে ফিরে আসেন এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে নব গঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড – ইন কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের এক ভয়াবহ যুদ্ধ স্মরণীয়। এখানেও সেই বীর যোদ্ধার বীরত্বের পরিচয় পেয়েছে বাঙালি। ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার বুকে ভারী অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে নির্বিচারে গুলি চালায় ও মানুষ মারে, তখন জিয়াউর রহমান দেশ ও বাঙালির টানে চট্টগ্রামে থাকাকালীন তাঁর সিনিয়র অফিসার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দী করেন এবং বিদ্রোহ করেন। তৎকালীন সময়ে শক্তিশালী পাকিস্তানি মিলিটারির বিরুদ্ধে এমন দুঃসাহসিক অভিযান কেবল দেশমাতৃকার জন্যে এবং দেশের মানুষের মুক্তির জন্যে সম্ভব। জিয়াউর রহমান সেই সাহসী কাজটি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী তখনও নেতাহীন বাঙালি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারেনি। অনেকটা দিশাহারা বাঙালি জাতি তাদের নেতা বিহীন। তখন ২৭ মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের বেতার কেন্দ্র থেকে একজন বাঙালি আর্মি অফিসারের এক সাহসী কন্ঠের ঘোষণা শুনতে পেয়ে মানুষ দারুন সাহসী হয়ে উঠে। হ্যাঁ, তখন মেজর জিয়াউর রহমানের কন্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বারবার প্রচার করা হয়। মূলত এ কারণেই বাংলাদেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জেনে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে দেখি রাজনৈতিক দলীয় প্রতিপক্ষেরা স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে সহজ ভাবে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। কিন্তু ; যিনি ঘোষণা করেন বা কোনো বিবৃতি কোনো প্রচার মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করেন তাঁকে ঘোষক বলতে বাধা কোথায় আমি বুঝি না। সে যা-ই হোক, এরপর শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। সিলেটের বীর সন্তান জেনারেল এমএজি ওসমানীর নেতৃত্বে মোট এগারোটি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ চলে এবং প্রায় ত্রিশ লক্ষ বাঙালি প্রাণের বিনিময়ে ও প্রায় দুই লক্ষ বাঙালি নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং তিনি ছিলেন জেড ফোর্সের অধিনায়ক। জিয়াউর রহমান সময়ের সাহসী সন্তান। যখনই দুর্যোগের ঘনঘটা তখনই জিয়াউর রহমান উপস্থিত হয়েছেন বুদ্ধি ও সাহসে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর বীরত্বের জন্যে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকে নানান অস্থিরতা দেশজুড়ে। ‘এখানে রাজনৈতিক টানাটানির নানান ঘটনা ঘটে যায়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলো। ১৯৭২ এর সংবিধানের ভিত্তিতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হলো। কিন্তু ১৯৭৩ এর মার্চেই সংবিধান সংশোধন হলো। ১৯৭৫ এর ২৫ জানুয়ারী দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ বন্ধ হয়ে গেল এবং এ বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলো।’ তখন আমাদের দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন শফিউল্লাহ। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা খন্দকার মোশতাক। এরপর একের পর এক পরিবর্তন। সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমান এক সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পান। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতার সর্বোচ্চ পদ নিয়ে এলোমেলো পরিস্থিতি। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না, দেশ অরক্ষিত বিবেচিত হয়। এমন দুঃসময়েও এগিয়ে এলেন জিয়াউর রহমান। মাঝে রাজনীতি ও সেনাবাহিনীতে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার পর ১৯৭৮ সালের ৩ জুন দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক-ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় জনতা পার্টি, ন্যাপ ( মোজাফফর) সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে জেনারেল অবঃ মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সহ আরো কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই থেকে তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। এরপর ১৯৭৯ খ্রীষ্টিয় সালে দেশে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চার পাশাপাশি নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চলছিলো গ্রাম থেকে শহরে। বিদেশেও যোগাযোগ বাড়িয়ে সুনাম অর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। ভালো-ই চলছিলো। ‘কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ১৯৮১ খ্রীষ্টিয় সালের ৩০ মে বেতার ( রেডিও) ও টেলিভিশনে তৎকালীন সেনাপ্রধান লে জে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, চট্টগ্রামে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী বাংলাদেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে।’ শেষ করছি ‘ গণতান্ত্রিক প্রেম ‘ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের কথা উল্লেখ করে – “বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি কোনোদিন সরাসরি দেখিনি। তবে ইতিহাস পড়ে জেনেছি তিনি ছিলেন অনেক বড়ো মাপের একজন মানুষ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি এদেশের মানুষের ভালোবাসা আমি নিজের চোখে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা ঘটলো এর কিছুদিন পরেই।
একদিন যখন শুনতে পেলাম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গুলি করে মেরে ফেলেছে, আমার সত্যি খুব কষ্ট হয়েছে। সেদিন কতো মানুষকে দেখেছি কান্নাকাটি করে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েছে। আমি তখন বুঝেছিলাম, একজন বড়ো নেতাকে মেরে ফেলেছে। মানুষ তাঁকে খুব ভালোবাসতো।”।।
# লেখক _ কলামিস্ট ও সাহিত্যিক

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: