নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। রোববার (১১ আগস্ট) জামিন আদেশের পরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ।
রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হবে আগামী ১১ অক্টোবর। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ- পুলিশি নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সেসময় সারা দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছি।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিলেন এবং দীর্ঘ ৩২ দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় এসআই আকবরসহ মোট ছয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন রায়ের অপেক্ষা। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামি অক্টোবরেই এই মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় আসামি আকবরের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের জন্য পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। রায় ঘোষণার আগে আসামিরজামিন পাওয়া আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। এতে আমরা বিচারের বিষয়ে আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছি।”
আইনজীবীরা বলছেন, জামিন পেলেও রায় ঘোষণার আগে আসামির পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতে আদালতের কঠোর নজরদারি থাকা উচিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের আলোচিত মামলার আসামিদের জামিন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
রায়হান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিকে ঘিরে মামলার শেষ পর্যায়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, মামলার আরেক আসামি আশিক এলাহী আগামীকাল জামিন পেতে পারেন। অন্যদিকে বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক। এর মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রে, একজন ফ্রান্সে এবং দু’জন মধ্যপ্রাচ্যের দুটি ভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।