স্টাফ রিপোর্টার : ‘ইশারা ভাষার ব্যবহার,বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা ইশারা ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসন,জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সিলেট এবং প্রতিবন্ধী সংগঠনসমূহের যৌথ উদ্যোগে শেখঘাটস্থ জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১টায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিভাগীয় সমাজ সেবা কার্যালয় সিলেট এর উপ পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সিলেট এর ক্লিনিক্যাল ফিজিও থেরাপিস্ট নাহিদ সুলতানা,স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম এর শিক্ষিকা মৃত্তিকা দাশ মৌ এর যৌথ সঞ্চালনায় আলেচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার(রাজস্ব,জেনারেল সার্টিফিকেট ও প্রবাসী কল্যাণ শাখা) মো. রাকিবুল আলম,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হক, ওসমানী হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার খলিলুর রহমান, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সিলেট এর প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর রায়, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান সামছু, গ্রীণ ডিসঅ্যাবল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ খান,সিলেট বধির সংঘের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাজী এম আহমদ আলী, সমাজভিত্তিক প্রতিবন্ধী ও শিশু সুরক্ষা সংস্থা সিলেট এর সভাপতি কাজী মহসিন কবির দিদার,শাপ্রিবি কর্মকর্তা সালামত রাজা চৌধুরী।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর রায়। বক্তব্য রাখেন- সিলেট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় শেখঘাট এর প্রধান শিক্ষক মায়া বেগম, শাহ জালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইন্সস্টিটিউট শাহী ঈদগাহ সিলেট এর প্রধান শিক্ষক হেপী রানী দে,নাসিমা আক্তার,পল্লব সাহা প্রমুখ। ইশারা ভাষা উপস্থাপন করেন- সিলেট শেখঘাট সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সানা উল্লাহ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা অপরিহার্য উল্লেখ করে বলেন, মানুষের মনের ভাব প্রকাশের সব চেয়ে বড় মাধ্যম হলো মুখের ভাষা। বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী বাংলা দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কানে শুনতে পায়না,কথাও বলতে পারেনা। তাদেরকে বলা হয় বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তাদের মনের ভাব প্রকাশ ও যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো ইশারা ভাষা। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী প্রচলিত ও ব্যবহৃত ভাষা হলে ইশারা ভাষা। ২০১২ সার ২৬ জানুয়ারি সরকারের আন্ত:মন্ত্রনালয় সভায় সর্ব সম্মতিতে ৭ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ১৯৯৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বাংলা ইশারা ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, ১৯৬৩ সালে ৭টি বিভাগে ৭টি সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম চালু করা হয়।সিলেট শেখঘাট সমাজসেবা কমপ্লেক্সের পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। ৬৩ বছর ধরে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত চালু থাকা সিলেটের এই বিদ্যালয়টি এসএসসি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন থেকে দাবী জানিয়ে আসছেন সিলেট বধির সংঘের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাজী এম আহমদ আলীসহ সিলেটের প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন ও এতে প্রমিত বাংলা ইশারা ভাষা প্রণয়ণ, উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ, হাসপাতাল, আদালত, থানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় ইশারা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের লাইনে না দাঁড়িয়ে সুবর্ণ নাগরিক হিসেবে নির্বিগ্নে কেন্দ্রে ঢুকে ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন বলে জানান, প্রধান অতিথি সহকারী কমিশনার(রাজস্ব,জেনারেল সার্টিফিকেট ও প্রবাসী কল্যাণ শাখা) মো. রাকিবুল আলম। সভায় বক্তারা বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও ইশারা ভাষার উপর কর্মরত কর্মকর্তা ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের কর্মরত সংগঠকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করার জন্য অনুােধ জানানো হয়।





