নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্যারিসের কিংবদন্তী স্মৃতিস্তম্ভ “অজ্ঞাতনামা শহীদের সমাধি”র চিরন্তন শিখা দিয়ে সিগারেট ধরানোর ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল- এমনকি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাসিন্দা অনুমতি বাতিলের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশীদের কাছে ‘প্যারিস গেইট’ হিসেবে পরিচিত আর্ক দে ত্রিঁওঁফ (Arc de Triomphe)-এর নিচে অবস্থিত এই স্মৃতিস্তম্ভের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা চেইন অতিক্রম করে ৪৭ বছর বয়সী মরক্কো নাগরিক হামদি হাকিম (Hamdi Hakim) সেখানে পৌঁছান। কিছুক্ষণের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ধীরে ধীরে শিখার কাছে কাছে গিয়ে সিগারেট ধরান, এরপর নির্বাক পর্যটকদের নজরে সরে যান—জানায় একজন ভিডিও গ্রহণকারী পর্যটক।
মঙ্গলবার এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি প্যারিসের আর্ক দে ত্রিঁওঁফের (Arc de Triomphe) নিচে শিখার কাছে বসে সিগারেট ধরাচ্ছেন। তারপর তিনি নির্লিপ্তভাবে চলে যান, কয়েকজন পর্যটকের সামনেই। ভিডিওটি ১০ সেকেন্ডও দীর্ঘ নয়, কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
ফরাসি ফৌজদারি কোডে অনুজ্জীবন স্মৃতিসৌধের অপব্যবহার বা প্রফানেশনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি স্মৃতিকে আঘাত করেছিল”—তাছাড়া অভিযুক্তের বাসিন্দা অনুমতি (titre de séjour) বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্মৃতি ও সাবেক যোদ্ধাদের বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া মিরালেস ঘটনাটিকে “অশালীনতা” ও “অসহনীয় অবমাননা” বলে ঘোরতর নিন্দা জানিয়েছেন এবং বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করেছেন।
স্মৃতিসৌধের ঐতিহাসিক ও প্রতীকী গুরুত্ব:
এ স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯২০ সালের ১১ নভেম্বর আর্ক দে ত্রিঁওঁফের নিচে প্রতিষ্ঠিত হয়, অজ্ঞাত একজন ফরাসি সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে। ১৯২৩ সাল থেকে তার পাশে চিরন্তন শিখা প্রজ্বলিত রয়েছে, যা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে পুনরায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।