রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত




নিজস্ব প্রতিবেদক:

যথাযথ ভাবগাম্ভির্য, শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট কাল রাতে তাঁর পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের স্মরণে ৪৮-তম জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহার সভাপতিত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ এবং শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে দিনের কর্মসূচী শুরু করেন এবং ১৫ই আগস্টে নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে পবিত্র কোরআন থেকে তর্জমাসহ তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনানো হয় এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয় এবং দিবসটি উপলক্ষে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রাম এবং বাঙালি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের আঠারো জন শাহাদাতবরণকারী সদস্যের রূহের মাগফেরাত কামনা এবং গভীর শোক প্রকাশ করেন। প্রবাসী বক্তাগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও জনমানুষের জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা ধারণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।

রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা সমাপনী বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী, দৃঢ় ও আপোষহীন নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং বাঙালি জাতি গঠনে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। একটি গর্বিত জাতি স্বতন্ত্র পরিচয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে দুর্লভ সম্মান বাঙালি পেয়েছে, তার জন্য সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ- চিরঋণী, বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন যে, স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই বাঙালি ও বাংলাভাষার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে এসেছে। একাত্তরের গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী নিধন,স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং তাঁকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যা করেই সে ঘাতকচক্র থেমে থাকেনি, বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রাণ নাশের সক্রিয় চেষ্টা চালিয়ে গেছে সেই ঘাতকচক্র। ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে তিনি প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সোচ্চার ও সতর্ক থাকা এবং তা রুখতে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি ফ্রান্সে বসবাসরত সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: