নিজস্ব প্রতিবেদন :
গভীর ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করেছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২০২৩ সালে সেন্ট-দেনিসে প্রতিষ্ঠিত স্থায়ী শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফরাসি সরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। আয়েবা মহাসচিব ও সেকানো বাঙালির প্রধান উপদেষ্টা জনাব কাজী এনায়েত উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন-দেনি ডিপার্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জনাব স্টেফান স্ত্রুছেল। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ কেবল একটি দেশের ইতিহাস নয়, এটি আজ বিশ্ব ইতিহাসের অংশ। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম মানবতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
সেন্ট-দেনিসের মেয়রের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জনাব ইয়ানিক কাইয়ে। তিনি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া জনাব করন্তাঁ দুপ্রে, মোফতাউ ইবুরোয়া, জনাবা অরিয়ান ফিলল এবং আবিদা হানেফা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আয়েবা এক্সিকিউটিভ সদস্য জনাব শুভ্রত শুভ এবং মোঃ আলী আজম খান। তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা আমাদের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শহিদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি আত্মত্যাগ, গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
সমাপনী বক্তব্যে সেকানো বাঙালি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এবং শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা জনাব স্বরুফ সদিউল উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “এই শহিদ মিনার আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের শিক্ষা ও চেতনার বাতিঘর হয়ে থাকবে। প্রবাসে থেকেও আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন অটুট রাখব।”
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন ও পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সেকানো বাঙালির সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু জাফর তানিম।
গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ এবং দায়িত্ববোধে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।









