শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

করোনার ধাক্কায় গোটা বিশ্ব দিশেহারা




নিখিল মানখিন ॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার। প্রতিরোধ কার্যক্রমের সঙ্গে পুরো সরকারব্যবস্থা ও দেশবাসীর সম্পৃক্ততা দৃশ্যমান। এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, সাধারণ ছুটি, সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, দেশের মানুষকে বাসায় ঢুকিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ কঠোর হাতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার। সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে করোনার থাবায় দিশেহারা ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় অনেক ভাল আছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং জনপ্রতিনিধিরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে সরকারের। করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রতি মুহূর্ত মনিটরিং করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারী নির্দেশনাসমূহের সঙ্গে জনসাধারণের আন্তরিক অংশগ্রহণের মিলন ঘটলেই করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক মহামারী। এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অসহায় হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আতঙ্কমুক্ত থাকতে পারে না। চীনে মহামারী এবং ইউরোপের দেশগুলোতে করোনার প্রাথমিক সংক্রমণের সময় বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইন শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারলেও করোনা সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করার কাজটি অনেক আগে শুরু করে বাংলাদেশ। আর দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর করোনা প্রতিরোধে গ্রহণ করতে থাকে একের পর এক কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরগুলোতে বিদেশফেরতদের স্ক্রিনিং কার্যক্রম, করোনার নমুনা পরীক্ষা, হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য এবং জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিনেমা হল, সভা-সমাবেশ, কমিউনিটি সেন্টার এবং সকল ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারী ঘোষণা দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ স্থল ও সমুদ্রবন্দরসমূহের প্রবেশপথ। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দুদফা। অফিস-আদালতের পাশাপাশি গণপরিবহন সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরী সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে নিজ নিজ বাসায় ঢুকিয়ে দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সর্বশেষ ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। বাংলাদেশও তাই করছে। বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধে সরকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশবাসী। অনেক মন্ত্রণালয়েরই করোনা প্রতিরোধে কন্ট্রোল রুম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিবর্গ ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে গোটা সরকারব্যবস্থা করোনা প্রতিরোধে সার্বিকভাবে যুক্ত হয়েছে। করোনা বিষয়ে একাধিক কমিটি আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি জাতীয় কমিটি আছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি আছে। একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম আছে। সব ধরনের কাজের সমন্বয়ের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি সমন্বিত কন্ট্রোল রুম আছে। আইইডিসিআরে আছে পৃথক কন্ট্রোল রুম। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুমও করোনা নিয়ে কাজ করছে।

প্রস্তুতির ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রশীদ-ই-মাহবুব জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার দেরিতে হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি দেয়া, দেশের বিভিন্ন স্থান লকডাউন করা, লম্বা সরকারী ছুটি দেয়া, পরীক্ষার আওতা বৃদ্ধি, সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি, লোকজনকে নিজ নিজ বাসায় ঢুকিয়ে দেয়া, কোয়ারেন্টাইনে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ- এসব পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান বলেন, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি একটি বৈশি^ক মহামারী। এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিশে^র উন্নত দেশগুলো অসহায় হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আতঙ্কমুক্ত থাকতে পারে না। চীনে মহামারী এবং ইউরোপের দেশগুলোতে করোনার প্রাথমিক সংক্রমণের সময় বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইন শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারলেও করোনা সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করার কাজটি অনেক আগে শুরু করে বাংলাদেশ। আর দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিরোধে গ্রহণ করতে থাকে একের পর এক কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: