শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অভিমানে চল্লিশ বছর পূর্বে দেশ ছাড়া সেই মফিদুল ইসলাম চৌধুরীর সন্ধান!




শহিদুজ্জামান চৌধুরী, পর্তুগাল:

নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ২য় পুত্র কসবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মফিদুল ইসলাম চৌধুরী। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে নিজ বাড়ি থেকে অভিমান করে ঘর ছাড়া হন। অন্তত পনেরো বছর পরে পরিবার জানতে পারে তিনি ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে আছেন, এর পরে তিনি পর্তুগালে বসবাস শুরু করেন। নিজেকে রহস্যের মধ্যে রাখা মফিদুল ইসলাম চৌধুরী পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকেন। মা সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছদরুন্নেছা চৌধুরী, ছোট ভাই লুৎফুর রহমান চৌধুরী, ভাতিজা বাবলু চৌধুরী ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে আসেন নি। চিরকুমার রূপে এখনও পর্তুগালে আছেন। আমার পাশের বাড়ির হিসেবে তাদের পরিবারের সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক।

আমি পর্তুগাল যাওয়ার সময় তাদের বাড়ি থেকে ওনার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে নিয়ে যাই। পর্তুগালে যাওয়ার পর অনেকবার ওনার নাম্বারে ট্রাই করেছি কিন্তু নাম্বার বন্ধ। গত তিনমাস পূর্বে ইতালি প্রবাসী আমার বড় ভাই দবির আহমদ চৌধুরী ওনার একটি নাম্বার আমার ওয়ার্সাপে প্রেরণ করেন। আমি কল দিতেই কল রিসিভ হয়। সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর খুব অল্প কথায় কোনো তথ্য না দিয়ে কল কেটে দেন। এরপর আর কল দেইনি। ওনার কোনো ছবি না থাকায় ওনাকে খোঁজে বের করা কঠিন হয়ে যায়।

তবে শহিদুজ্জামান বলে কথা! আমি মনে মনে ভেবেছিলাম তিনি লিসবনে নেই। থাকলে কোনো না কোনো ভাবে অবশ্যই দেখা পেতাম। আজ লিসবনের বাহিরের ছোট্ট শহর কাসকাইসে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে কথা প্রসঙ্গে দেখা পেয়ে গেলাম, রহস্যময় সেই মফিদুল ইসলাম চৌধুরী ভাইয়ের। অনেক সময় গল্প হলো। পরিবার, গ্রাম ও দেশের রাজনীতি নিয়ে। তিনি অনেক খবরই জানেন নিজেকে সবসময় গোপন রাখতে চান। বললেন কয়েক বছর পূর্বে ব্রিটেন ঘুরে এসেছেন ভালো লাগেনি পর্তুগালে রুজি কম হলেও শান্তিতে রয়েছেন। পর্তুগালে তিনি অনেককে লিগেল হতে সহযোগিতা করেছেন। আমাকে উপদেশ দিলেন, কার্ড পেয়ে যেন, সুইজারল্যান্ড চলে যাই সেখানে ওনার অনেক পরিচিত জন আছেন।

আমি জানতাম ওনি ছবি তুলতে দিবেন না তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফরিদ ভাইকে বললাম আমাদের আলোচনার ফাঁকে দূর হতে ছবি নেয়ার জন্য। ক্যামেরা দূর থেকে ক্লিয়ার ছবি তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। পর্তুগালে তিনি একজন রহস্য মানব। পর্তুগাল যাওয়ার দুদিন পর আমি পর্তুগাল বিএনপির সভাপতি অলী আহমেদ চৌধুরী। যিনি কমিউনিটির একজন পুরাতন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওনার সাথে দেখা করি। ওনি আলোচনায় মফিদুল ইসলাম চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলে আফসোস করে বলেন, স্বর্ণালী যুগে সে পর্তুগালে এসে কিছুই করতে পারেনি অথচ তার অনেক পরে পর্তুগালে এসে অনেকেই অসংখ্য দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। সে কখন কোথায় যায় অবস্থান করে কেউ বলতে পারেনা। কাসকাইসে ওনার পরিচিত কয়েকজন বললেন, মফিদুল ইসলাম চৌধুরী অত্যন্ত ভদ্র একজন গুণী মানুষ। কাসকাইস মসজিদে ওনাকে প্রায়ই দেখা যায় তবে তিনি কোন বাসায় থাকেন তা ওনি ছাড়া কেউ বলতে পারেনা।

মফিদুল ইসলাম চৌধুরী কে বললাম দেশে যাওয়ার কথা। তিনি মৃদু হাসলেন! হয়তো আর যাবেন না, বয়স হয়ে গেছে বার্ধক্য এসেছে শরীরে। আমাকে বললেন, ছোট ভাই কোনো টাকা লাগবে? বললাম, না ভাই। বললেন, ট্রেনে লিসবন যেতে টাকা লাগবে আমি বললাম আমার মাসিক ৪০ ইউরোর মেট্রো কার্ড করা। সমস্যা নেই। পরবর্তীতে দেখা হবে বলে বিদায় নিলেন! ওনার রহস্য হয়তো রহস্যই থাকবে আর এভাবে হয়তো একদিন পরদেশের…..ওনার সার্বিক মঙ্গল কামনায়!
উল্লেখ্য, মফিদুল ইসলাম চৌধুরী সিলেটের স্বনামধন্য প্রয়াত শিক্ষাবিদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরীর আপন ভাতিজা। আমেরিকা প্রবাসী সিলেটের স্বনামধন্য কবি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর আপন চাচাতো ভাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈজুল ইসলাম চৌধুরীর আপন ছোট ভাই।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: