বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বই মেলায় মনজুরুল আহসান বুলবুলের “দুইশ ছড়ার ঝিলিক”




অমর একুশের বইমেলায় এসেছে দেশের প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মনজুরুল আহসান বুলবুলের ছড়ার বই ‘দুইশ ছড়ার ঝিলিক’। এ বইটির প্রকাশক অন্যান্য প্রকাশনী।

প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। বইটি বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ২২ নম্বর স্টলে এবং রকমারি ডট কমে পাওয়া যাচ্ছে। মেলার পরে বাতিঘর, পাঠক সমাবেশ ও বেংগল বুকসসহ অন্যান্য বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে।

‘দুইশ’ ছড়ার ঝিলিক’ বইয়টির ছড়াকারের নামে চোখ পড়লে এ সময়ের পাঠকরা একটু চমকাবেনই। গত প্রায় চার দশক ধরে মনজুরুল আহসান বুলবুলকে সকলে একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক হিসেবেই চিনে এসেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার তার। আর সে ক্যারিয়ার যেনো তেনো নয়। দেশের প্রধানসারির একজন সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাও। লেখালেখিতে সিদ্ধহস্ত। সাংবাদিকতা নিয়ে বই লিখেছেন। কর্মস্থলে সাংবাদিকতার একজন অন্যতম শিক্ষকও তিনি। দেশে বিদেশ সুনাম তার। তবে এতসবের মধ্যে তাকে ছড়াকার হিসেবে আলাদা করে চিনতে হয়নি, চেনার প্রয়োজনও হয়নি। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মনজুরুল আহসান বুলবুলের বই বেরিয়েছে, দুইশ’ ছড়ার ঝিলিক।

এই পরিচয়ে তো কেউ কখনো আপনাকে চিনতো না! এমন মন্তব্যে সহাস্যে বললেন, না না ওখানেই পরিচয়ের পালা শুরু। একসময় আমাদের ছড়াকার হিসেবেই চিনতেন মানুষ। সেই ৭০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে ৮০ দশকের শেষভাগ অবধি ধুমিয়ে ছড়া লিখেছি। তখন সাংবাদিকতায় কম আর ছড়ায়ই বেশি সময় দিতাম। এরপর তো সাংবাদিকতায় বেশি সময় দেওয়া শুরু করি। আর ধীরে ধীরে ছড়াকারের পরিচয় চাপা পড়ে যায়।

সমসাময়িক ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের কথা উল্লেখ করে বলেন মনজুরুল আহসান বুলবুল, তখন আমরা রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেক কিছুতেই ছিলাম অতুষ্ট, অসন্তুষ্ট। ফলে ছড়া লিখতাম। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, আমলাতন্ত্রের সব যে ছাপা হতো তা নয়। তবে লিখতাম প্রচুর। এসব ছড়া নিয়েই প্রকাশিত হলো ২০০ ছড়ার ঝিলিক।

প্রত্যেকটা ছড়ারই একটি নিজস্ব অর্থবহতা রয়েছে, আর সেগুলোর কোনো না কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো। ৭৫’র পরর্তী সময় থেকে একটি দীর্ঘকাল দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু ছিলো না। দেশকে নানাবিধ অন্যায় অবিচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তাই ছড়াগুলোও ছিলো সেসব নিয়ে। ফলে ছড়াগুলোর শক্তি ছিলো।

আর ছিলো ছড়ার ছন্দময়তা। দুইশ’ ছড়ার ঝিলিক পড়লে দেখা যাবে ছন্দেও রয়েছে মনজুরুল আহসান বুলবুলের দারুণ পাণ্ডিত্য। নানা ধরনের ছন্দে নানান ছড়া স্থান পেয়েছে এই বইয়ে।

ময়মনসিংহে বেড়ে ওঠা এই মনজুরুল আহসান বুলবুল তার কৃতিত্বের অনেকটা দিতে চান নিজ এলাকাকেও। একটি সংস্কৃতিমনা অঞ্চলে তার জন্ম। অনেক কবি সাহিত্যিক পন্ডিতের জন্মভূমি এই ময়মনসিং, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সম্মৃদ্ধ। তার একটি প্রভাব তার নিজের মধ্যে পড়েছে এমনটা বলতে তিনি গর্ব বোধ করেন।

জানালেন প্রখ্যাত সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছেন, তারই ফল হিসেবে নিজে গড়ে উঠতে পেরেছেন সংস্কৃতমনা হয়ে সেটাই বড় পাওয়া।

অন্য অনেক পরিচয় ছড়াকারের পরিচয়কে ছাপিয়ে গেছে, তাই না? এমন প্রশ্নে আওড়ালেন নির্মলেন্দু গুণের উদ্ধৃতি। বললেন, তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা সাহিত্যের শত্রু’। নিজেই অবশ্য সাংবাদিকতা যে ‘লিটরেচার ইন অ্যা হারি’, সে কথা উল্লেখ করে বলেন- সব কিছু এক সঙ্গে হয় না।

আরও বললেন, সাংবাদিকতা সাহিত্যের শত্রু হয়তো নয়, তবে সাংবাদিক ইউনিয়ন করলে অনেক কিছুই আর করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সবশেষ বললেন, এবার অবশ্য যখন সুযোগ মিললো পুরনো ছড়াগুলো সংগ্রহ করে ছাপানোর উদ্যোগ নিলেন। এবং হয়ে গেলো। “এমনটা যে ভেবে রেখেছিলাম তা নয়। কিন্তু যখন হয়ে গেছে। বইটি যখন প্রকাশিত হলো, বই মেলায় এসে গেলো পুলকিত বোধ করছি।”

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: