শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লুপেনকে নিয়ে ভয় কেন মুসলমানদের!




শাহ সুহেল আহমদ, ফ্রান্স (প্যারিস) থেকে:

মাত্র একদিন পর রোববার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব। দেশটির পরবর্তি ৫ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ দিনই। চূড়ান্ত পর্বে লড়ছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যামানুয়েল ম্যাক্রন ও Rassemblement National পার্টির মারিন লুপেন।

গেল কয়েক দশকের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন নিয়ে এবারের মতো এতো আলোচনা ছিল না। শেষ ধাপের এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন নির্বাচক বিশ্লেষকরা।

এবারকার নির্বাচন নিয়ে সবচে বেশি উদ্বেগে আছেন দেশটিতে বসবাসরত মুসলমানেরা। তাদের টেনশনের মূল কারণ মারিন লুপেন। চরম ডানপন্থী এই প্রার্থী ইতোমধ্যে যেসব ঘোষণা দিয়েছেন, তা মুসলমানদের জন্য সত্যিই কি উদ্বেগের? এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি- প্যারিসে বসবাসরত মুসলমানদের সাথে। লুপেন যা যা বলেছেন তার মধ্যে দুটি বিষয় সবচে বেশি ভাবনায় ফেলেছে তাদের।

লুপেন অঙ্গিকার করেছেন- তিনি নির্বাচিত হলে ফ্রান্সে পাবলিক প্লেসে কোনো মহিলা হিজাব পরে গেলে সাথে সাথে তাকে জরিমানা করা হবে। এছাড়া ফ্রান্সে কোনো হালাল মাংসের দোকান থাকবে না বলেও তিনি স্রেফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তুর্কী বংশোদ্ভূত প্যারিসে হালাল মাংসের দোকানের ব্যবসায়ী তাসনুভ যারার বলেন- এমন হলে আমাদের এখানে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অথচ এখানের আলো-বাতাসে আমার বড় হয়ে ওঠা। এখানেই লেখাপড়া করেছি। এ দেশটির প্রতি আলাদা টান রয়েছে। একই কথা বলছিলেন আলজেরিয়ান ফরাসী ইয়ানিস। তার মতে- লুপেন নিজের ব্যক্তিগত মতামতটাকে একটা জাতির উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। যদিও অধিকাংশ ফরাসী তা প্রত্যাখ্যান করছে।

একই রকম উদ্বেগে আছেন ফ্রান্সের বাংলাদেশী প্রবাসীরাও। কুমিল্লার প্রবাসী নাজনিন সুলতানা বলেন- ফ্রান্সের সংবিধান যেখানে নারীদের সবধরণের স্বাধীনতা দিয়েছে সেখানে কেউ এসে জোরপূর্বক আমাদের হিজাব খুলে নেবে, তা ভাবাই যায় না।

আরেক নবাগত প্রবাসী কামরুজ্জামান। তিনি ভয় করছেন, ২৪ তারিখের নির্বাচনে যদি লুপেন জয়ী হয় যান, তাহলে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থণার কী হবে?

শুধু হিজাব আর হালাল মাংসের দোকানই নয়, মারিন লুপেন মূলত ফ্রান্সে মুসলিম অভিবাসীদের দেখতে চান না। তার মতে- মুসলমান অভিবাসীরা ফ্রান্সের মূল ধারাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যারাতে ফ্রান্সের TF1 টিভিতে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সরাসরি বিতর্কে বসেন। এই বিতর্কে মারিন লুপেন তার এসব বিষয় তুলে ধরলে অ্যামানুয়েল ম্যাক্রন তা সরাসরি খন্ডন করেন। ম্যাক্রন বলেন- হিজাব নিয়ে এমন কোনো আইন আমরা করতে পারি না। এটা সংবিধান বিরোধী। তিনি এও বলেন- ফ্রান্সে যদি এ ধরনের কোনো আইন তৈরি করা হয়, তাহলে দেশকে মূলত ঘৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হবে।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: