নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের বালাগঞ্জে এক প্রবাসী নারীর জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজ চৌধুরীর মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিদ্দিকা চৌধুরী ও দেশে থাকা তার বোন সাদিকা চৌধুরীর নিজ নামীয় জায়গা একই গ্রামের মৃত আনোয়ারুল হক চৌধুরীর ছেলে চরমোনাই নেতা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু ও তার সহযোগীরা দীর্ঘ দিন ধরে দখলের পায়তারা করছেন বলে জানা গেছে।
সুলতানপুর মৌজার ৪৫৪ নম্বর খতিয়ানের দাগ নম্বর ৭৮ এর ২৫ শতক জায়গা স্থানীয় সুলতানপুর মহিলা মাদ্রাসার সীমানার পাশেই।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিদ্দিকা চৌধুরী জানান, কয়েক বছর আগে রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু তাদের বিল্ডিং সম্প্রসারণ কাজের উদ্দেশ্যে উল্লেখিত জায়গাটির কিছু অংশ চলাফেরার করার জন্য জায়গার মালিকদের কাছে অনুমতি চান। জায়গার মালিকগণ অনুমতি দিলেও আদৌও এদিকে কোন চলাচল হয়নি। তখন থেকে জায়গাটি ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত হিসাবে রাখেন রাজু ও তার সহযোগীগণ। মূলত, ওই সময়েই রাজু জায়গাটি অবৈধ ভাবে তার দখলে নিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করেন।
ছিদ্দিকা চৌধুরী বলেন, ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে তখন থেকেই তারা জায়গাটির জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে, সম্প্রতি আমার বড় বোন সাদিকা চৌধুরীর বাড়িতে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। ওই সময় আমি আমার ভগ্নিপতিকে অনুরোধ করি তিনি যেনো আমাদের দুই বোনের ওই জায়গাটিও মাটি দিয়ে ভরাট করেন। আমার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমার ভগ্নিপতি ওই জায়গাটিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে বাধা হয়ে দাঁড়ান রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু। তিনি বাধা প্রদান করে বলেন, এই জায়গাটি আমার, এখানে যাতে কেউ মাটি না ফেলে। গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে নয়টায় রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু ও সহযোগীরা তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার বোনের বাড়িতে এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এসময় তাদের ঘরে কোন পুরুষ মানুষ ছিলেন না। রাজু যে ফিল্মী স্টাইলে আমার বোনের ঘরে প্রবেশ ঘরে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করেছেন ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণাদি আমাদের কাছে রয়েছে।
ছিদ্দিকা চৌধুরীর বোন সাদিকা চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমি আমার অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমার স্বামী ও সন্তানদের তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি প্রাণে মেরে ফেলার ফন্দি আঁটছে। এ বিষয়ে আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এবিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় চাই।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজুর মোবাইলে কল দিলে তিনি বলেন, আমি জায়গাটি দখল করার কোন চেষ্টা করছি না। জায়গাটির কিছু অংশ ছিদ্দিকা চৌধুরী ও তার বোন উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু রেজিষ্ট্রি করে দেননি।
স্থানীয় সমাজকর্মী ও উত্তর সুলতানপুর পাঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী এমরান কবির চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক আমি এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। জায়গাটি ছিদ্দিকা চৌধুরী ও তার বোনের নামেই আছে। যারা দখল করার চেষ্টা করছেন বা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে দাবি করছেন তাদের উচিত দলিল ও পর্চায় যাদের নাম রয়েছে তাদের জায়গা হিসেবেই মেনে নেয়া।