নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এস কে সাউন্ড অ্যান্ড ইভেন্টের উদ্যোগে গত রবিবার অভারবিলিয়ার্সের ম্যারি দ্য অভারবিলিয়ার্সের স্টুডিও-২৬ হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন দেশের অতিথি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বয়সী দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে মিলনায়তন পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রকাশ দেখা যায় অনুষ্ঠানে।
আরশী চৌধুরীর বেহালার সুরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর স্বনামধন্য শিল্পী রাহুল আনন্দ। তাঁর পরিবেশিত গান দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি করে এক ভিন্ন আবহ। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন সুমা দাস, বরণ বড়ুয়া, পলাশ গাঙ্গুলি, গৌতম বিশ্বাস, আঁখি দেবনাথ ও সুবল দেবনাথ। দেশাত্মবোধক, লোকজ, আধুনিক এবং জনপ্রিয় বাংলা গানের সমন্বয়ে তাঁদের পরিবেশনা দর্শকদের দীর্ঘ সময় মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন রবিন, নিকসন, গৌতম বিশ্বাস, সত্যজিৎ বাবু, দেবজিৎ ও অমিত বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন পূর্ণা, দীপ্তি ও আবু বকর আল-আমীন। তাঁদের সাবলীল ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মাসুদ মিয়া, জুনেদ আহমেদ, সরফ সদউল, সাব্বির আহমেদ ও সাহেদ আহমেদ। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন অজয় দাস, দিব্য রায়, স্বপন মাহমুদ, শাহ আলম মায়া, রুবেল আহমেদ, সাকের আহমেদ ও সেলিম মাহমুদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মহামায়া পূজা পরিষদ, অন্নপূর্ণা পূজা পরিষদ, বাংলাদেশ সার্বজনীন পূজা পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জয় শ্রীরাম পূজা পরিষদ এবং সিলেটি সিস্টার্স ইন ফ্রান্স গ্রুপের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসে সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
একপর্যায়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এস কে সাউন্ড অ্যান্ড ইভেন্টের পরিচালক সুমন আহমদ এবং তাঁর সহযোগী মাসুদ আহমদ। তারা উপস্থিত শিল্পী, অতিথি, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “প্রবাসে বসবাস করলেও আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে ভুলে যেতে পারি না। সংগীত মানুষের হৃদয়কে একত্রিত করে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও বৃহৎ পরিসরে সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আয়োজকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক স্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত হয়। বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য উদযাপন হিসেবে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।





