শাহ সুহেল আহমদ:
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। পাঁচজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় কমিউনিটির ভেতর বইছে গর্ব ও আনন্দের ঢেউ।
নির্বাচিতরা হলেন- নাহিদুল মোহাম্মদ (সাঁ-দেনি), কৌশিক রাব্বানী (সাঁ দেনি- স্থা), ফাহিম মোহাম্মদ (ক্রেতেই), জুবায়েদ আহমেদ (ইভরি-সুর-সেন) এবং তানিয়া তনু (গার্জ-লে-গোনেস)। তাদের বিজয়কে দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ডজনখানেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর পদে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নাসির উদ্দিন (লা কুর্নভ), শরিফ আল মোমিন (লো বুর্জে), খিয়াং নয়ন (ভিনিয়ু-সুর-সেন) এবং আকাশ বড়ুয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ফ্রান্সের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাঙালিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ফলে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এখন যেন এক উৎসবমুখর আবহ।
নির্বাচিতদের মধ্যে কৌশিক রাব্বানী দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর এবারও তিনি তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন অভিবাসীদের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
ফাহিম মোহাম্মদের জীবনগাথা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। শৈশবে বাবার সাথে ফ্রান্সে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হওয়ার পর একসময় অনিয়মিত অবস্থায় পড়েন তিনি। পরবর্তীতে দাবায় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এবং বৈধতা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি একজন ফাইনান্সিয়াল অ্যানালিস্ট এবং ক্রেতেই শহরে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন।
ইভরি-সুর-সেন থেকে নির্বাচিত জুবায়েদ আহমেদ পেশায় একজন ক্রিকেটার। এই প্রথমবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
গার্জ-লে-গোনেস এলাকা থেকে নির্বাচিত তরুণী তানিয়া তনু একজন স্যোসাল ওয়ার্কার। মাত্র তিন মাস বয়সে পরিবারের সাথে ফ্রান্সে আগমন তার। অফি, লজমোসহ নানা স্যোসাল ওয়ার্কের সাথে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত।
সাঁ-দেনি এলাকায় নাহিদুল মোহাম্মদের বিজয়ও উল্লেখযোগ্য। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও তার এই সাফল্য স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কমিউনিটি নেতারা আশা করছেন, তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশী কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবেন।






