রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Sex Cams

প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামঃ নানা রূপে দেখা




শাহ সুহেল আহমদঃঃ

মোনালিসার ছবি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গবেষণা হয়েছে। আজ অবদি কেউ ফাইনালী বলতে পারে নি এটা হাসি নাকি অন্যকিছু। রহস্য ঘেরা সেই মোনালিসার অবস্থান প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে।

পৃথিবীর বিখ্যাত জাদুঘরগুলোর মধ্যে প্রথমে নাম বলতে গেলে বলতেই হয় ল্যুভরের কথা। এটি এক সময় দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এক সময় ল্যুভর ফ্রান্সের রাজ প্রাসাদ হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। এই জাদুঘরে প্রাচীন সভ্যতার শুরু থেকে আধুনিক সভ্যতার অনেক কিছুই রাখা আছে। এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসটি কিন্তু বেশ দীর্ঘ। বিভিন্ন রাজা-রাজরার শাসন কাল পেরিয়ে ষোড়শ লুই একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুসারে ১৭৯৩ সালে তিনি এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।

প্যারিসে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্যবার ল্যুভর মিউজিয়ামে যাওয়া হয়েছে। ছবিগুলো বিভিন্ন সময়ে তোলা। মজার বিষয় হলো, বারংবার যাওয়া হলেও মিউজিয়ামের অর্ধেকও দেখা শেষ হয় নি। একদা একদিন দুপুরে প্রবেশ করে সন্ধ্যেয় বের হয়েছি। তারপর মনে হলো সেদিন ১০ শতাংশ দেখা হয়েছে।

প্যারিসের সীন নদীর তীরে ১২০০ সালে নির্মিত যে ভবনকে ঘিরে এটি প্রথমে গড়ে ওঠে তা ছিল ফরাসি সম্রাট দ্বিতীয় ফিলিপের রাজকীয় দুর্গ ও প্রাসাদ। শিল্প সংগ্রহশালা হিসেবে ল্যুভরের সার্বিক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগে মোট ২০০ বছর। ল্যুভর হচ্ছে নানা ভবনের এক বিশাল সমাহার। ১৫৪৬ সালে এর পশ্চিম দিকের ভবনের কাজ শুরু হয় সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিসের নির্দেশে। শুরুতে এতে কেবল বিভিন্ন রাজকীয় দ্রব্যসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য রাখা হতো।

আছে একটি ইসলামিক কর্ণারও। নানা ধরণের ঐতিহ্যে খচিত এ কর্ণারে ইসলামি শিল্পবিভাগ সপ্তম শতক থেকে শুরু করে ১৯ শতকের স্থাপত্যশিল্প, ধাতব কাজ, সিরামিক, টেক্সটাইল, কার্পেট, পাণ্ডুলিপি ও আরও অনেক শৈল্পিক সৃষ্টি দর্শনার্থীদের প্রদর্শন করে থাকে।

১৯ শতকের পূর্বের ৩৫,০০০ দর্শনীয় বস্তু নিয়ে গঠিত ল্যুভর মিউজিয়াম ৬,৫২,৩০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে অবস্থিত। ১২ শতকে জাদুঘর স্থানে ফ্রান্সের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ একটি দূর্গ নির্মাণ করেন। যা পরবর্তীতে ল্যুভর প্রাসাদ হিসেবে রুপান্তরিত করে জাদুঘর তৈরী করা হয়। তবে পূর্বের দূর্গটির কিছু অংশ এখনও দৃশ্যমান। ল্যুভর প্রাসাদটি বিভিন্ন সময়ে বর্ধিত করা হয়েছে। ১৬৮২ সালে ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইস তাঁর বাসস্থান ল্যুভর হতে ভার্সাইলস প্রাসাদে স্থানান্তর করেন। এরপর হতে ল্যুভর প্রাসাদকে প্রাথমিকভাবে রাজকীয় সংগ্রহশালা দর্শনালয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৬৯২ সালে এখানে একটি প্রাচীন ভাস্কর্য সংগ্রহ করে আনা হয়। ঐ বছর দালানটি সংরক্ষণের দায়িত্ব কাব্যশাস্ত্র ও লিপি শিক্ষালয় এবং রাজকীয় অঙ্কন ও ভাস্কর্য শিক্ষালয়ের যৌথ পরিষদের উপর ন্যস্ত হয়। ১৬৯৯ সালে জাদুঘরটিতে যৌথ পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ পরিষদটি ১০০ বছর বিদ্যমান ছিল।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: