শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসকদেরও চোখ কপালে!




করোনাভাইরাসের মার্কিন কেন্দ্রস্থল নিউইয়র্কে বুধবার একদিনে মৃত্যুর আরেকটি রেকর্ড গড়েছে। রোগীদের মৃত্যু ও শারীরিক অবস্থার অবনতি এতটাই দ্রুত ঘটছে, যা দেখে সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের চোখ কপালে উঠে গেছে।-খবর রয়টার্সের

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যার সরকারি হিসেবে সব তথ্য উঠে আসছে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন কর্মকর্তারা। কারণ বাড়িতে বসে যেসব রোগী মারা যাচ্ছেন, এই হিসাবে তাদের গণনা করা হচ্ছে না।

নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কিউমো বলেন, প্রতিটি নম্বর একেকটি মুখমণ্ডল। মারা যাওয়া লোকজনের স্মরণে রাজ্যটিজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।

কিউমো বলেন, এই ভাইরাস ঝুঁকিপূর্ণদের আক্রান্ত করে, দুর্বলদের আক্রান্ত করে। বিপন্নদের সুরক্ষা দেয়া সামাজিকভাবে আমাদের কর্তব্য।

চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, বয়ষ্ক ও আগে থেকে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় থাকা রোগীরাই কেবল ঝুঁকিতে না, তরুণ ও স্বাস্থ্যবানরাও রয়েছেন।

নিউইয়র্ক শহরের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের নার্স ডিয়ানা টরিস বলেন, দেখতে ভালো মনে হচ্ছে, ভালো বোধ করছেন, অন্যদের দেখে এমন রোগীদের কাছে ফিরে আসার পর আর তাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমার মানসিকভাবে বিকল হয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছে। তাদের কক্ষের বাইরে পা দিতেই আতঙ্ক বোধ করছি।

যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার দুপুর পর্যন্ত চার লাখ ৩০ হাজারের মতো লোক কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরপর একটানা দুদিন ২৪ ঘণ্টায় অন্তত এক হাজার ৯০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে।

কিউমো বলেন, তার রাজ্যে গতকাল ৭৭৯ জন মারা গেছেন। আর নিউজার্সিতে মৃত্যু হয়েছে ২৭৫ জনের। মৃত্যুর এই দুটো হিসাবেই আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এই নির্মম পরিসংখ্যানের পরেও নিউইয়র্ক গভর্নরের দাবি, তার রাজ্যের সার্বিক প্রবণতা ইতিবাচক। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কমছে। সংক্রমণের হারের ওপরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪২টি রাজ্যে ‘ঘরের থাকার নির্দেশ’ জারি করা হয়েছে, নিউইয়র্ক তাদের একটি। এসব জায়গার সব অপ্রয়োজনীয় কর্মস্থানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ছোঁয়াচে রোগ নিয়ন্ত্রণে এমন পদক্ষেপ আবশ্যিক বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করলেও এতে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। লোকজনকে ব্যাপকহারে বেকারত্বে দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কিউমো বলেন, প্রাণহানি অব্যাহত থাকবে কিংবা আসছে দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

ভেন্টিলেটরে যুক্ত হওয়ার পর রোগীদের মধ্যে যাদের স্বাস্থ্য আশঙ্কাজনক, তারা মারা যাচ্ছেন। করোনায় মৃত্যুর হিসেবে ইতালির পরেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। মার্কিন মৃত্যুর এক তৃতীয়াংশই নিউইয়র্ক শহরে হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছাতে পারে।

হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, আমরা এ সপ্তাহে নিজেদের হৃদ যন্ত্রণার মাঝে রয়েছি। তবে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: