বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

করোনাবন্দী সময়ঃ কেমন কাটছে প্রবীণদের




মিজান মোহাম্মদ :

১০ বছর ধরে ডায়াবেটিস রোগী বৃদ্ধ নেয়ামত আলী। বয়স সত্তোরোর্ধ। চারদেয়ালে বন্দীর আজ প্রায় ১৭ দিন। নিয়মিত হাঁটা হাটি করার অভ্যাস থাকলেও সন্তান এবং পরিবারের সবার বারণকে মাথায় তুলে তাও বন্ধ অনেকদিন। স্কুল বন্ধ নাতি-নাতিনদের। খোলা থাকলে সময়টা কেটে যেতো স্কুলে যাওয়া-আসা করে। এখন সময় কাটছে কেবল করোনা আতঙ্ক নিয়ে। বাসার ছাদের উপর উঠে পায়চারী করতে বারণ ছেলের বৌয়ের। বাতাস লেগে যেতে পারে-এমন ভয়ে। বাধ্য হয়েই টিভি দেখা আর ঘুমানো ছাড়া কাজ নেই এই ভদ্রলোকের। এরকম নেয়ামতের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য নগরীতে। যাদের এখন সবকিছু থেকেই অবসর। ‘বারণ’ নামক এক নির্দেশিকার কাছে গৃহবন্দী সকলেই।

মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের তান্ডবে বিশ্বজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৬৪ হাজার ছাড়াল। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণ ঘটে। এরপর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রাণ হারাতে দেখল বিশ্ব। এরই মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমিতের সংখ্যা ১১ লাখ পেরিয়ে গেছে। ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, চীন, ইরান যেন পরিণত হয়েছে রূপকথার মৃত্যুপুরীতে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষের চোখে-মুখে আতংকের ছাপ। স্বস্তিতে কেউ। স্বস্তিতে আমাদের প্রিয় লালসবুজের দেশ।

আক্রান্ত প্রায় প্রতিটি দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। প্রথম দফায় ঘোষিত ছুটি ছিল ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পযর্ন্ত। বর্তমানে তা বেড়ে দাড়ায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ১০ ও ১১ এপ্রিল শুক্র ও শনি বার। মোট কথা সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১২ এপ্রিল দেশ নেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শহুরে প্রবীণরা বাসায় চার দেয়ালে মধ্যে খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে বের হতে পারছেন না বাসা থেকে। এমনিতেই অধিকাংশ শহুরে প্রবীণদের সময় কাটানোর মাধ্যম ছিল- বাজার খরচ, নাতি নাতনিদের স্কুল থেকে আনা নেওয়া, টিভি দেখা, বেড়ানো, আডদা দেওয়া, ডায়বেটিস থেকে বাচতে সকাল বিকাল হাঁটা ইত্যাদি, যার কোন কিছুই করতে পারছেন না।
নগরীর আরামবাগ নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ হাজী ইলিয়াস মিয়া বলেন- দীর্ঘদিন ধরে নানারোগে ভুগছি। হাটাচলা না করলে নিজেকে আরো অসুস্থ মনে হয়। আর এই কদিনে গৃহবন্দী অবস্থায় মনে হচ্ছে হাবিয়া দোযখে বাস করছি। কাজলশাহ নিবাসী ডা: এস এম আলী আকবর বলেন- বাসায় শুয়ে বসে আর কতো দিন এভাবে কাটানো যায় ! মাঝে মাঝে মনে হয় এ যেন আমাদের পাপের শাস্ত

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: