শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মাঠে সোনালী ধানের গন্ধ // ঘরে তোলার মানুষ নেইঃ দুশ্চিন্তায় কৃষককুল




 

মিজান মোহাম্মদ:

হু হু বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা, তাল মিলিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। দেখতে দেখতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে আটারো লাখ, মৃত্যু একলাখ বাইশ হাজারের মত। করোনা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর থেকে অসহায় ব্যক্তিও।

কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছে হাওর অধ্যুষিত কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। ধান কাটার শ্রমিকের অভাব ও পর্যাপ্ত মেশিন না থাকায় যথাসময়ে বোরো ধান কেটে গোলায় উঠাতে পারবে কি না এ নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তায় ভূগছেন তারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটতে না পারলে অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাবার ও আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য কম পাওয়ার দুশ্চিন্তাও। এ অবস্থায় উচ্চ সুদে ঋণ পরিশোধসহ উৎপাদনের খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হবে কৃষকদের। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশের খাদ্য সরবরাহের বড় অংশটি নিশ্চিত হয় বোরো ধানের মাধ্যমে। সরকারি গুদামে মজুদের মূল অংশটিও নির্ভরও করে এই ফসল থেকে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মূলত বোরো কাটা শুরু হলেও এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কিছুটা দেরিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার বোরোতে দুই কোটি টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানা গেছে। গত দুই বছর অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তেমনটা উঠাতে পারেনি। এতে এক ফসলি জমির উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এবার কড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবার সেই জমিতে আবাদ করেছেন তারা। তবে ফসল ঘরে ওঠাতে না পারলে তবে জমি বিক্রি করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

কৃষকরা জানান, বোরো ফসল উঠিয়েই ধান বিক্রি করে ধান কাটার শ্রমিক, মাড়াই এবং ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এ সময় প্রতি বছর ধানের দাম একদম কম থাকে। তবে এবার করোনার কারণে ধানের দাম আরো কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা। এমনটা যদি হয় তবে কৃষকরা এবারো ঋণের বোঝা কমাতে পারবে না।

নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাইনি। ইতোমধ্যে বিআর২৮ ধান পেকে গেছে। এক সপ্তাহ মধ্যে এ ধান না কাটতে না পারলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাকি জাতের ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেটে শেষ করতে হবে। না হয় হাওরে পানি চলে আসবে। এখন কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।

নবীগঞ্জ উপজেলার প্রথম পত্রিকা ‘মাসিক গোপলা’র সহ-সম্পাদক এম এ রহিম জানান, এ সময় ধান কাটার জন্য কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুড়িগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলা থেকে শ্রমিকরা আসেন। লকডাউনে যানবাহন বন্ধ থাকায় এবার শ্রমিকরা আস্তে পারছেন না। তবে অনেক হাওরে বিকল্প পদ্ধতিতে শ্রমিকরা এসেছে যা পর্যাপ্ত নয়। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকরা করোনাভাইরাসে নয় মরবেন অনাহারে।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: