মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মাওলানা আনসারীর মৃত্যুতে কষ্ট অনুভব করছি : আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন





সৈয়দ মবনু

হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী আমাদেরকে ছেড়ে পরকালের যাত্রী হয়েগেছেন। বেশ কষ্ট অনুভব করছি। যদিও তিনি বয়সে আমার কিছুটা বড়, তবে এক সময় খুব গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। তাঁর সম্পর্কটা আমার ছোটভাই-এর সাথেও ছিলো। আমি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকের কথা বলছি। পরিচয়ের সূত্র, তিনি আমার বাবার সাথে দেখা করতে আমাদের বাসায় আসতেন। আমার বাবার সাথে তিনিও খেলাফত মসলিস করতেন। আমার সাথে তাঁর প্রথম পরিচয় কোথায় তা স্মরণ নেই। তবে তিনি প্রায় আমাদের বাসায় আসতেন। মানুষ তিনি খুব মিশুক ছিলেন।

আমাদের ঘরের একটি মৌলিক সমস্যা, একজনের বন্ধুত্বের সূত্রে কেউ প্রবেশ করলে পরে তিনি প্রকৃত অর্থে কার বন্ধু তা স্মরণ থাকে না। হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর ক্ষেত্রেও তাই হলো। দেখাগেলো, এক সময় তিনি আমার থেকে বেশি আমার ছোটভাই সৈয়দ নাসিরের সাথে সম্পর্কিত। অবশ্য এর একটি কারণ ছিলো, আমি সাধারণত ওয়াজ মাহফিলগুলোতে কম যাওয়া-আসা করি এবং লেখক-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী ছাড়া খুব কম মানুষে সাথে আমার গভীর আড্ডা জমে উঠে। আমার ভাই আবার ওয়াজ মাহফিলে খুব আয়োজন করে যাওয়া-আসা করতো। হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী একজন ওয়ায়েজ, তাই দেখাগেলো আমার ভাইয়ের সাথে তাঁর সম্পর্কটা গভীর হয়ে যায়।

কোনকোন রমজানে দেখা যেত সে বাড়িতে থাকলে মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী রাতে তারাবীর পর আমাদের বাসায় চলে আসতেন জাম্বুরার আসার খাওয়ার জন্য। আমার ভাই তাঁর জন্য বেশি করে রসুন দিয়ে জাম্বুরার আসারের ব্যবস্থা করতো। এভাবে দেখাগেলো আমার সাথে তাঁর দূরত্ব হয়েযায়, সম্পর্ক হয়ে যায় আমার ভাইয়ের সাথে। আমিও পারি না সময় দিয়ে একান্ত প্রয়োজন না হলে কারো কাছে যেতে। এভাবেই এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তবে আত্মা দিয়ে ভালোবাসতাম ভদ্রলোককে। মূর্খ এবং ফালতু কেচ্ছাকাহিনীর ওয়ায়েজদের মধ্যেও যারা কিছুটা তথ্য-তত্ত¡ নির্ভর বক্তব্য রাখতেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন ছিলেন। আগে মাঝেমধ্যে তার ওয়াজ শোনা হতো। আমাদের গ্রামে বাবার প্রতিষ্ঠিত একটি মহিলা মাদরাসা রয়েছে। মাঝেমধ্যে মাওলানা আনসারী সেখানে বার্ষিক ওয়াজে যেতেন। আমার দু-একবার দেখা হয়েছে আমাদের গ্রামের বাড়িতেও। বেশ কিছুদিন তিনি অসুস্থ থেকে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: