সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

একনজরে রোজা (অধ্যায়-১)




  •  ইমন শরীফ
রোজার সংজ্ঞা:
————————
রোজা ( روزہ) মূলত বাংলাভাষার শব্দ নয়,বরং ফার্সিভাষা থেকে বাংলাভাষায় প্রবেশকৃত একটি বিদেশিশব্দ।
শাব্দিকঅর্থে রোজার বাংলা হলো-দিন,দিবস ইত্যাদি।
ফার্সি রোজা ( روزہ) শব্দটি আরবিশব্দ সাউম ( صوم ) এর অর্থ সরাসরি প্রকাশ না করলেও রোজার দ্বারা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ সাওমই উদ্দেশ্য।
আরবিব্যাকরণ অনুযায়ীصومশব্দটি বাবে নাসারার ক্রিয়ামূল। অভিধানিক অর্থ ‘আল ইমসাক’ অর্থাৎ কোন কিছু থেকে বিরত থাকা, কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা,কথাবলা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।
তবে আরবি ক্রিয়ামূলের বহুলপরিচিত গ্রন্থ “ছাফওয়াতুল মাছাদির” প্রণেতা আস-সাওমু মাসদারের অর্থ সরাসরি রোজাই বলেছেন,যদিও আভিধানিকভাবে তা বিধিবদ্ধ নয়।
 আল্লামা রাগেব ইস্পাহানী এর মতে, সাওম এর অর্থ কাজ থেকে বিরত থাকা। সিয়াম হচ্ছে তার বহুবচন।
ইংরেজিতে যাকে Fastingবা Islamic Fasting বা holly Fast বলা হয়।
 সাওম এরপারিভাষিক সংজ্ঞা- “ইবাদতের নিয়তে ফজরের উদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস হতে বিরত থাকাকে সাওম (রোজা) বলা হয়।”
রোজা কীভাবে সাওমের সমার্থক:
———————————————
সুবহেসাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যস্ত যেহেতু দিনের অংশ, সেহেতু সাওমকে ফার্সিভাষায় রোজা বলা হয়।
কেননা রোজা অর্থ দিন, আর সাওমের বর্ণিত নিষিদ্ধবিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার সময়সীমা হচ্ছে, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত; যা দিনের অংশের মধ্যে পড়ে। সুতরাং সাওম এর শাব্দিক অর্থ সরাসরি রোজা না হলেও সঙ্গতকারণে ফার্সিভাসায় রোজা শব্দদ্বারা সাওমই বুঝানো হয়।
সাধারণ অর্থে সাওম:
—————————–
সাওম শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা। তাইতো চুপ বা নিস্তব্ধ থাকাকে সিয়াম বলে। আর যে ব্যক্তি চুপ থাকে তাকে সায়েম বলে।
পবিত্র কুরআনের সুরা মারইয়ামে আল্লাহ তায়ালা হযরত মরিয়ম (আঃ)এর বিনাপিতায় হযরত ঈসা(আঃ)এর জন্ম সম্পর্কিত ঘটনা তুলে ধরে বর্ণনা করেন, “ফাইম্মা তারাইন্না মিনাল বাশারি আহাদান ফাকুলি ইন্নি নাজারতু লির রাহমানি সাওমান ফালান উকাল্লিমাল ইয়াওমা ইনসিয়ান।” (সুরা মারইয়াম আয়াত ২৬)
অর্থ : (সন্তান ভূমিষ্ঠের পর) যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ (কোনো প্রশ্ন বা কৈফিয়ত করতে) তবে তুমি বলো, ‘আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশে সাওম বা রোজা (কথা বলা থেকে বিরত থাকতে) মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলবো না। (সুরা মারইয়াম : আয়াত ২৬)
কোরআন কারিমের এ আয়াতের শিক্ষনীয় ঘটনা : হযরত মরিয়ম আলাইহি ওয়া সাল্লামের গর্ভে সন্তান জন্ম লাভের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, শিশুর ব্যাপারে তোমার কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তার জন্মের ব্যাপারে যে কেউ আপত্তি তুলবে তার জবাব দেবার দায়িত্ব এখন আমার (আল্লাহর)। উল্লেখ্য, বনি ইসরাঈলের মধ্যে মৌনতা বা কথা বলা থেকে বিরত থাকার পদ্ধতি অবলম্বনের রোজা রাখার রীতি ছিল।]
বলা বাহুল্য এখানে ‘সওম’ এর অর্থ হলো কথা বলা থেকে বিরত থাকা।
কারণ প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম নয়; বরং অসারতা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার নামই হলো (প্রকৃত) সিয়াম। সুতরাং যদি তোমাকে কেউ গালাগালি করে অথবা তোমার প্রতি মুর্খতা দেখায়, তাহলে তুমি (তার প্রতিকার বা প্রতিশোধ না নিয়ে) তাকে বলো যে, আমি সায়েম, আমি রোযা রেখেছি, আমি রোযা রেখেছি। (মুস্তাদরেকে হাকেম, ইবনে হিব্বান)
রোজার প্রকার:
———————
রোজা মোট ছয় প্রকার
১. ফরজ রোজা,যেমন রমজান মাসের রোজা ।
২. ওয়াজিব রোজা, যেমন মান্নতের রোজা ।
৩. সুন্নত রোজা, যেমন, আশুরার রোজা
৪. মুস্তহাব রোজা, যেমন আইয়ামে বীজের রোজা প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা। রাখা। ৫. মাকরুহ রোজা, আশুরার ১টি রোজা রাখা।
৬. হারাম রোজা, যেমন দুই ঈদের দিনে রোজা এবং কুরবানির ঈদের পরের তিন দিন রোজা রাখা।
রোজা কখন ফরজ হয়:
——————————
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগেও রোজা ফরজ ছিল, তবে কোন রোজা ফরজ ছিল এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন ১০ মহররম অর্থাৎ আশুরার রোজা ফরজ ছিল, আবার কারও কারও মতে, ‘আইয়ামুল বিজ’ অর্থাৎ প্রত্যেক চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা ফরয ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করলেন তখন আইয়ামুল বিজের রোজা রাখতেন। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরিতে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য রোজা ফরজ করে এ এ আয়াত নাজিল হয় ‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময় পূরণ করবে। আল্লাহ চান তোমাদের জন্য যা সহজ তা, আর তিনি চান না তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য এবং যেন তোমরা শোকর করতে পার।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)।
এ আয়াত নাজিলের পর আশুরার রোজা অথবা আইয়ামুল বিজের রোজা পালনের ফরজিয়াত মানসুখ(রহিত) হয়ে যায়।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আব্বাস (রা.) এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, আগে রোজা ছিল এক সন্ধ্যা থেকে আরেক সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাতে ঘুমানোর পরে পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা বৈধ ছিল না।
রোজার ইতিহাস:
————————
মানুষের জন্য রমজান মাসের সিয়াম বা রোজাই প্রথম রোজা নয়। কারণ, সিয়াম বা রোজা হলো এমন এক ইবাদত, যা মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য ফরজ করেছে
বস্তুত রোজা রাখার বিধাণ সর্বযুগে ছিল । হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আখিরী নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলগণের যুগেই রোজার বিধান ছিল ।
এদিকে ইঙ্গিত করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ইমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমাদের পরহেয্‌গারী অর্জিত হয় ;
( সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)
এ আয়তের ব্যখ্যায় আল্লামা আলূসী (রঃ) স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ ‘রুহুল মাআনী’ তে উল্লেখ করেছেন যে এখানে ‘মিন ক্বাবলিকুম’ দ্বারা হযরত আদম (আঃ) হতে শুরু করে হযরত ঈসা (আঃ) এর যুগ পর্যন্ত সকল যুগের মানুষকে বুঝানো হয়েছে । এতে এ কথা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, রোযা কেবল আমাদের উপরই ফরয করা হয়নি বরং আদম (আঃ) এর যুগ হতেই চলে এসেছে । অন্যান্য তাফসীর বিশারদগণও অনুরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন । শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (রঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ
রোযার হুকুম হযরত আদম (আঃ) এর যুগ হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে
(ফাওয়াইদে উসমানী)
কোনো কোনো তাফসিরের বর্ণনায় রয়েছে, আদম (আ.)-এর সৃষ্টির পর তাঁকে ‘নিষিদ্ধ ফল’ আহার বর্জনের যে আদেশ দিয়েছেন- এটাই মানব ইতিহাসের প্রথম সিয়াম সাধনা। ইতিহাসে আরো পাওয়া যায়, আদম (আ.) সেই রোজা ভাঙার কাফ্ফারাস্বরূপ ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন।
আর ওই নিষিদ্ধ ফলের প্রভাব আদম (আ.)-এর পেটে ৩০ দিন বিদ্যমান ছিল বলে আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতকে আল্লাহ তাআলা এক মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিহাসে এ-ও পাওয়া যায়, ওই ফলের প্রভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব যুগে ৩০টি রোজা ফরজ ছিল।
তবে হযরত আদম (আঃ) এর রোযার ধরন কেমন ছিল তা সঠিকভাবে বলা যায় না । আল্লামা ইমাদুদ্দীন ইবন কাশীর (রঃ) বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখার বিধান ছিল । পরে রমজানের রোযা ফরয হলে তা রহিত হয়ে যায় । হযরত মু’আয, ইবন মাসউদ, ইবন আব্বাস, আতা, কাতাদা এবং যাহ্‌হাক (রাঃ) এর মতে তিন দিন রোযা রাখার বিধান হযরত নূহ (আঃ) এর যুগ হতে শুরু করে নবী করিম (সঃ) এর জামানা পর্যন্ত বলবৎ ছিল । পরে আল্লাহ্‌ তা’আলা রামাযানের রোযা ফরজ করে ঐ বিধান রহিত করে দেন ।
তাফসীরে রুহুলমাআনীতে একথাও উল্লেখ আছে যে,
‘যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল’ বলে যে তুলনা করা হয়েছে তা শুধু ফরয হওয়ার ব্যাপারে প্রযোজ্য হতে পারে । অর্থাৎ তোমাদের উপর যেমন রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও রোযা ফরজ করা হয়েছিল । যদিও নিয়ম এবং সময়ের দিক থেকেও এ তুলনা প্রযোজ্য হতে পারে । তাই বলা হয়যে, কিতাবিদের উপরও রামাযানের রোযা ফরজ ছিল । তারা তা বর্জন করে বছরে ঐ একদিন উপবাসব্রত পালন করে, যেদিন ফির’আউন নীলনদে নিমজ্জিত হয়েছিল । এরপর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও উক্ত দিনে রোজা রাখে । অবশ্য তারা এর সাথে আগে-পিছে আরো দুইদিন সংযোজন করে নেয় । এভাবে বাড়াতে বাড়াতে তারা রোজার সংখ্যা পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছে দেয় । গরমের দিন এ রোজা তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য হলে তারা তা পরিবর্তন করে শীতের মৌসুমে নিয়ে আসে ।
মুগাফ্‌ফাল ইব্‌ন হানযালা (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন খৃষ্টান সম্প্রদায়ের উপর রামাযানের একমাস রোযা ফরয করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁদের জনৈক বাদশাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা এ মর্মে মানত করে যে, আল্লাহ্‌ তাঁকে রোগমুক্ত করলে রোযার মেয়াদ আরো দশ দিন বাড়িয়ে দেব । এরপর পরবর্তী বাদশাহর আমলে গোস্ত খাওয়ার কারনে বাদশাহর মুখে রোগব্যধি দেখা দিলে তারা আবারো মানত করে যে, আল্লাহ্‌ যদি তাঁকে সুস্থ করে দেন তবে আমরা অতিরিক্ত আরো সাতদিন রোযা রাখব । তারপর আরেক বাদশাহ সিংহাসনে সমাসীন হয়ে তিনি বললেন, তিন দিন আর ছাড়বো কেন ? এবং তিনি এও বলেন যে, এ রোযাগুলো আমরা বসন্তকালে পালন করব । এভাবে রোযা ত্রিশের সংখ্যা অতিক্রম করে পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছে যায়
(রুহুল মাআনি, ২য় খন্ড)
হযরত ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীরা আশুরার দিন সাওম পালন করে । তিনি জিজ্ঞাসা করালেন কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন । এ দিনে আল্লাহ্‌ তা’আলা বনী ইসরাইলকে তাঁদের শত্রুর কবল থেকে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মুসা (আঃ) সাওম পালন করেন । রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিক হকদার । এরপর তিনি এ দিন পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন
(বুখারী, সাওম অধ্যায়)
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, হযরত মুসা ও হযরত ঈসা (আঃ) এবং তাঁদের উম্মাতগণ সকলেই সাম পালন করেছেন । নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আঃ) এর রোযা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্নিত । তিনি বলেন, নবী (সঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সবসময় রোযা রাখ এবং রাতভর নামায আদায় কর । আমি বললাম জী, হ্যাঁ । তিনি বললেনঃ তুমি এরূপ করলে তোমার চোখ বসে যাবে এবং শরীর দূর্বল হয়ে পড়বে । যে ব্যক্তি সারা বছর রোযা রাখল সে যেন রোযাই রাখলনা । (প্রতি মাসে) তিনি দিন রোযা রাখা সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য । আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী রাখার সামর্থ রাখি । তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি ‘সাওমে দাঊদী’ পালন কর । তিনি একদিন রোযা রাখতেন আর একদিন ছেড়ে দিতেন । (ফলে তিনি দূর্বল হতেন না) এবং যখন তিনি শত্রুর সম্মুখীন হতেন তখন পলায়ন করতেন না ।
(বুখারী, সাওম অধ্যায়)
এতে একথা প্রমাণিত হয় যে, হযরত দাউদ (আঃ) ও সিয়াম পালন করেছেন । মোটকথা হযরত আদম (আঃ) এর যুগ থেকেই রোযা রাখার বিধান ছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে আদর্শচ্যুত হয়ে লোকেরা আল্লাহ্‌র বিভিন্ন বিধানকে যেভাবে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছিল অনুরূপভাবে রোযার ধর্মীয় তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য শেষ হয়ে একটি নিছক প্রথায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল ।
এহেন অবস্থা হতে রোযাকে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের দিকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং একে অত্মিক, নৈতিক ও চারিত্রিক কল্যাণের ধারক বানানোর নিমিত্তে মহান রাব্বুল আলামিন দ্বিতীয় হিজরিতে রামাযানের মাসের রোযাকে এ উম্মাতের উপর ফরয করে দেন । এভাবেই রোজার ধারাবাহিকতা রক্ষাপায়। (চলবে)

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: