শনিবার, ২৮ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান নামা




তানভীর আহমদ তোহা

পাকিস্তানে এতো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনে কোন সহিংসতা কিংবা  মানুষ নিহতের কোন ঘটনা ঘটে নাই। এটা অনেক বড় একটা ইতিবাচক ঘটনা বলা যায়। ইমরান খানের ক্ষমতা গ্রহন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সবই হয়েছে মূলত  গনতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের ভিতরেই। যদিও  ঘটনার নৈপথ্য অনেকগুলো শক্তির দৌরাত্ম্য থাকলেও পর্দার বাহিরে খেলছিলো শুধুমাত্র রাজনৈতিক শক্তিই।
পাকিস্তানি মিলিটারি এবং যুক্তরাষ্ট্র ইমরান খানের পতনের পিছনের মূল শক্তি হিসাবে থাকলেও তারা প্রকাশ্য খেলায় মোটেই  আসে নি।  যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কারনে তারা তাদের হস্তক্ষেপটা প্রকাশ্য মোটেই  স্বীকার করে নি। তবে, সবচেয়ে  আশ্চর্জনকভাবে এবার পাকিস্তান মিলিটারী তার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপটাও  ক্রমাগতভাবে প্রকাশ্য অস্বীকার করেই গেছে। ইমরান খান পতনের সময় সুযোগ থাকা সত্ত্বে মিলিটারী  পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা নেয় নি। পাকিস্তান মিলিটারী এবার  নিজেরা পিছনে  থেকে কলকাটি নাড়ালেও আখেরে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ব্যাপারটি গনতান্ত্রিক ফ্রেমওর্য়াকের ভিতরেই রেখেছে। এটা পাকিস্তানি মিলিটারির অনেক বড় ম্যাচিউরিটি দেখাতে পেরেছে যা অতীতে খুব কমই দেখা  গিয়েছে ।
অন্যদিকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইমারন খান ক্ষমতা হারালেও   জনগণকে সমর্থন পেয়েছেন ব্যাপকভাবে। স্বভাবিকভাবে কোন  রাজনৈতিক গোষ্ঠী শাসন ক্ষমতা হারালে তাৎক্ষনিকভাবে  তার জনপ্রিয়তার পারদ থাকে একেবারেই  নিচের দিকে। কিন্তু,ইমরান খানের বেলায় তা হয়েছে ঠিক উল্টো। অপরদিকে, শাহবাজ শরীফ,  বিলাওয়াল এবং মাওলানা ফজলুর রহমানের সম্মীলিত বিরোধী জোট শাসন ক্ষমতা পেলেও জনগণের সমর্থন হারিয়েছেন ব্যাপকভাবে। তাছড়া বিগত  বছরগুলোর  অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতায় এখন পুরো দায় এসে পড়বে নতুন  সরকারের উপর।
 যার ফলে, ইমরান খান যদি জেলে  না যান কিংবা আততায়ীদের হাতে নিহত  না হোন  তবে তিনি যে আরও শক্তিশালী হয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে   ফিরে আসছেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
ইমারন খান পাকিস্তানের ভেতর যুক্তরাষ্ট্রের অনায্য হস্তক্ষেপের ঘটনাটি অত্যন্ত  পরিস্কারভাবে  তার জনগনকে বুঝাতে পেরেছেন যার ফলে পুরো পাকিস্তানব্যাপী এখন তরুনদের মনে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী মনোভাব খুব শক্ত করে জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন। পাশাপাশি,  জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তজার্তিক ফোরামে পৃথিবীর নির্যাতীত মুসলিমদের পক্ষে জোরালো  এবং সাহসী ভূমিকা নিয়ে তিনি দক্ষিন এশিয়ায় মুসলিম  তরুনদের মনে বিরাট জায়গা করে নিয়েছেন।
আফসোসের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে  পাকিস্তানের মূল ইসলামপন্থী  দলগুলো ভূমিকা একবারেই হতাশাজনক। কিছু ইসলামপন্থী দল শাহবাজ শরীফের মতো দূর্নীতির বরপুত্রদের সাথে জোট করে ইমরান বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। আবার, কিছু ইসলাম পন্থী দল কোন ভূমিকা  না নিয়ে  একবারেই দর্শকে ভূমিকা পালন করছেন।
পুনশ্চ : অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও বর্তমানে পাকিস্তান মিলিটারী শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনকে  শেষ পর্যন্ত যেভাবে গনতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে রেখেছে এমন আচরন যদি তারা সত্তরের নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ বিজয়ী যুক্তফ্রন্ট নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে করতো তাহলো হয়তো আজ    ইতিহাস ও বাস্তবতা সম্পূর্ন ভিন্ন হতো।
লেখক: কলামিস্ট

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: