মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ম্যাক্রোঁর গদি টিকিয়ে রাখার লড়াই আজ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ রোববার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আজই নির্বাচনেই নির্ধারণ হবে ইউরোপীয় ঘেঁষা মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নাকি উগ্র ডানপন্থী অভিবাসন বিরোধী মেরিন লো পেন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ফ্রান্সের শাসন ক্ষমতায় বসবেন।

কে জিতবে?
মতামত জরিপগুলোতে অবশ্য ম্যাক্রোঁকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় এবার তার অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। সে সময় ম্যাঁকো ৬৬.১ শতাংশ ভোটে লো পেনকে পরাজিত করেছিলেন। এবার ক্ষীণ হলেও লো পেনের জেতার সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কোন বিষয়টি ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলবে?

ভোটাররা কাকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন বা ভয় পান? কোনো প্রার্থীরই ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থক নেই। তাই এখানে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের জন্য মূল বিষয় হলো ভোটারদের বোঝানো যে অন্য প্রার্থী আরও খারাপ। তাই ম্যাক্রোঁ উগ্র-ডানপন্থীদের ব্যাপারে ভয় ঢুকিয়ে তার পক্ষে ভোটারদের টানতে পারেন। অন্যদিকে লা পেন ক্ষমতায় থাকাকালে ম্যাঁক্রোর নানা ব্যর্থতা তুলে ধরে নিজের কোর্টে বল ঠেলতে পারেন।

বামপন্থী ভোটারদের সিদ্ধান্তই হবে ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্রোঁর স্টাইল এবং নীতির প্রতি বামপন্থী অনেকেই হতাশ। তাই ২০১৭ সালের তুলনায় এবার বামপন্থীদের সমর্থন পাওয়া ম্যাক্রোঁর জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

নির্বাচনের পর কী হবে?
তিক্ত, বিভেদমূলক প্রচারণার পরে রোববারের নির্বাচনে যিনিই জিতুন তিনি সম্ভবত অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন।

ম্যাক্রোঁ যদি জয়ী হন, তবে দ্বিতীয় দফায় জনগণের মন জুগিয়ে চলা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এবার ভোটাররা পেনশনসহ ব্যবসা সমর্থক সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার জন্য রাস্তায় নামতে পারেন।

অন্যদিকে লা পেন বিজয়ী হলে, ফ্রান্সের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতির আমূল পরিবর্তন হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। লা পেন জেতার পর অবিলম্বে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটারদের জন্য প্রধান সমস্যা কি কি?
বিদ্যুতের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির পর ক্রয় ক্ষমতা ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লা পেন তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিষয়টিকে সফলভাবে সামনে এনেছেন।

ইউক্রেনের যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। জনমত জরিপে প্রচারণা শুরুর দিকে ম্যাক্রোঁর ভালো অবস্থান থাকলেও শেষের দিকে তার ধস নামে।

সমীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে ভোটাররা ম্যাক্রোঁর অর্থনৈতিক নীতিতে অসন্তুষ্ট। তবে বেকারত্ব কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অবশ্য যারা জরিপ পরিচালনা করেছেন তারাও মনে করেন না যে তার বিরোধীদের মধ্যে কেউ ভাল করবে।

করোনা মহামারি মোকাবেলায় ম্যাক্রোঁর কার্যক্রমও নির্বাচনে একটি ভূমিকা পালন করতে পারে।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: