বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা পুরুস্কার প্রাপ্ত দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানী নবীগঞ্জের আব্দুল মুছাব্বের চৌধুরীর ইন্তেকাল




এম.শহিদুজ্জামান চৌধুরী (পর্তুগাল থেকে):

দেশের সূর্য সন্তান স্বাধীনতা পুরুস্কার প্রাপ্ত মহাকাশ বিজ্ঞানী, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ খ্যাতিমান লেখক-গবেষক ড. আব্দুল মোছাব্বের চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি গত ১৯-০৫-২২ইং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

১৯৪০ খ্রিঃ ১১ নভেম্বর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কায়স্তগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত অভিজাত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল খালেক চৌধুরী ও মাতার নাম কামরুন্নেছা চৌধুরী।

গ্রামের পাঠশালায় পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৯৫৭ খ্রিঃ তিনি মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১ম বিভাগে মেট্রুকুলেশন পাশ করেন। তিনি সম্মেলিত মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৯ খ্রিঃ সিলেট এমসি কলেজ থেকে তিনি আই এসসি পরীক্ষায় তৎকালীন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৯ খ্রিঃ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গণিত শাস্ত্রে বি এসসি(সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকে সম্মান সূচক কালী নারায়ণ বৃত্তি প্রদান করে। পরবর্তীতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় সায়েন্টেফিক অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান’ (স্পারসো) তে রূপ লাভ করে। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন।

স্পারসোর চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ণয় করার জন্য তাঁর উদ্ভাবিত Rose Petal Thcory বৈজ্ঞানিক পরিমন্ডলে সমধিক খ্যাতি লাভ করে।
আল নিনো, লা নিনো তত্ত্ব ব্যবহার করে বাংলাদেশের খরা ও বন্যার পূর্বাভাস প্রদানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এতে বাংলাদেশে সংঘঠিত প্রাণসংহারী ঘূর্ণিঝড়ের জনগণের জান -মাল রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ৪০০ এর ও অধিক গবেষণা মূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞান বিষয়ে গ্রন্থাকারে ইতিমধ্যে তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞান বিষয়ক অসংখ্য কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি Bangladesh Academy of Sciences এ ফলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গবেষণা কর্মে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯৮ খ্রিঃ তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ “স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ও মহাকাশ বিজ্ঞানে অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা নাসা কর্তৃক “গ্রুপ অ্যাচিভমেন্ট এডওয়ার্ডে তিনি ভূষিত হন।

পারিবারিক জীবনে বিবাহিত ড.আব্দুল মোছাব্বের চৌধুরী দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক। তাঁর স্ত্রী ঢাকার ইডেন কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল প্রফেসর রওশন আরা রশিদ।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: