শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কোন পথে সোহেল রানা খুনের প্রতিবাদ? দ্বিধাবিভক্ত কমিউনিটিই কি বড় বাঁধা!




অনুক্ত কামরুল :

বাংলাদেশী প্রবাসী সোহেল হত্যার পর সপ্তাহ পার হতে চলল। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর ফেসবুকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেভাবে সরব হয়েছিলেন, প্রতিবাদে মাঠে নামার ডাক দিয়েছিলেন, সপ্তাহ পেরুনোর আগেই যেন সে আবেগ, সে উত্তেজনা নিভতে বসেছে।

একাধিক সূত্র মতে, সোহেল রানা হত্যার প্রতিবাদী আন্দোলন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্যারিসের বাঙালি কমিউনিটি দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ একজন আন্দোলনের ডাক দিলে আরেকজন উল্টো রথ গাইছেন।

হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের নিয়ে খোলা একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের বেশ কয়েকটি স্কিন শট এসেছে বাংলা টেলিগ্রামের হাতে। সেখানেও দেখা গেছে নানা বিভক্তি। আন্দোলন হবে নাকি হবে না, এ নিয়ে একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপেও চলছে চরম বিরোধ।

তবে অফিওরার কর্ণধার রাব্বানী খান ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন, আন্দোলনের জন্য তিনি প্রিফেকচারে আবেদন করেছেন। আবেদন পেলেই আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

এদিকে, সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে সোহেল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রবাসীদের ডাকা আন্দোলন নিয়ে কমিউনিটির এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর দেয়া বক্তব্যকে ঘিরেও চলছে চরম উত্তেজনা। অনেকই এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

সুহেল রানা খুনের ঘটনায় এখনও ফ্রান্সের বাঙালি কোন কমিউনিটির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোন প্রতিবাদ দেখা যায় না। শুধুমাত্র ফেইসবুক পোস্ট আর হত্যার বিচার চেয়ে হ্যাশট্যাগ #justicePourshohelRana লিখে দায় সেরেছেন। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে, সারা বছর বাঙালি কমিউনিটির লোকজনকে সেবার নামে যারা নিজেদের আখের গোছিয়েছে তাদের কি কোনো দায় নেই? পরবাসে নেতৃত্ব দেয়ার বা পদ পদবীর পেছনে ছুটার মানসিকতা ছাড়া বাঙালি কমিউনিটির স্বার্থে কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না। এমনি নতুন যারা প্যারিসে আসছেন তাদেরকে সহযোগিতার নামে ব্যবসা গড়ে উঠলেও ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কোন স্বার্থ হাসিলে পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। যার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষজন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন।

এক সময়ের ছাত্রনেতা বর্তমানে প্যারিসে বসবাস করেন সামুন আকবর খান ৩০ মে তার ফেইসবুকের আইডিতে মুন্সিগঞ্জের সুহেল রানা খুনের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিটির নেতাদের সমালোচনা করে পোস্ট করেছেন, ‘ফ্রান্সের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে নেতাদের অভাব নেই। কেউ কাউ কে কিছু বললে-ই এই করে ফেলবে সেই করে ফেলবে,এমন কি ১৪ গুষ্টি উদ্ধারও করে ফেলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশী একজন ভাই বাস্তুিল থেকে ভোর রাতে কাজ শেষ করে নিজ বাসায় ফিরার সময় ভিনদেশি সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে মারা যান। কিন্তু বাংলাদেশীরা ভালো কোন পদক্ষেপ নেওয়া তো দুরের কথা আজ পর্যন্ত একটা মানববন্ধনও করতে পারলো না।’ এভাবেই তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অসমর্থিত সুত্রের খবরে জানা যায়, বিভিন্ন আঞ্চলিকতার নামে শুধু মাত্র প্যারিস শহরে কয়েক শ’ কমিটি রয়েছে! বিভিন্ন দিবস বা নিজেদের প্রর্দশনের কাজ ছাড়া কমিউনিটির স্বার্থে এদের এক হয়ে কোন কাজ করতে দেখা যায় না।

সোহেল রানা হত্যার পর সাধারণ লোকজনের সমর্থন নিয়ে কমিউনিটির নেতারা একটা ভালো প্রতিবাদের আয়োজন করতে পারতেন বলে মনে করেন প্যারিসে বসবাসরত তারেক তানভীর আজাদ। তিনি বলেন, কমিউনিটির নেতাদের শুধু পদ চাই, কাজের বেলায় কেউ নাই। জুনেদ আহমদ নামের আরেক তরুণ প্রবাসী বলেন, প্যারিসে শ্রীলঙ্কানদের কমিউনিটি এতোই শক্ত যে, তাদের উপর কেউ হামলা করার সাহস করে না। তারা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের ঐক্য নেই বলেই আজ এত সমস্যার মুখোমুখি।

সাদেক তাপাদার নামের একজন বলেন, এখানে সবাই নিজেকে নেতা মনে করেন। কর্মী নেই। এক নেতার আড়াই কর্মী যেমন আরকি এমন দশা চলছে। তিনি বলেন, সুহেল রানার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময়!

প্যারিসের বাসিন্দা জাহেদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা সেবার নামে এতদিন ধরে মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, তারা যদি আন্দোলনের ডাক দিতেন বা কথিত কমিউনিটির আঞ্চলিক নেতারা যদি এক হয়ে প্রতিবাদ করতেন। তাহলে মানুষ তাদেরকে বিশ্বাস করতো। এখন কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না। সবাই নিজেদের ধান্দায় আছেন!

 

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: