মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্যারিসে একুশের কবিতা পাঠ ও আলোচনা




ডেস্ক রিপোর্ট :
‘অমর একুশ ভাষা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে সাহিত্যের ছোটোকাগজ ‘স্রোতে’র আয়োজনে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হল
« একুশের কবিতা পাঠ ও আলোচনা » । কবি বদরুজ্জামান জামানের উপস্থাপনায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সোমবার সন্ধ্যায় প্যারিসের একটি হলে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে- আলোচনা এবং একুশ নিয়ে লিখা প্রসিদ্ধ কবিতাসমূহের আবৃত্তি ও স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন- কবি আবু জুবায়ের, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী আরিফ রানা, আবৃত্তিশিল্পী মুনির কাদের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসনাত জাহান, ছড়াকার ও কবি লোকমান আহমদ আপন ,
স্রোত সম্পাদক কবি বদরুজ্জামান জামান, কবি মেরি হাওলাদার, সাহিত্যানুরাগী মোহাম্মদ আহমেদ সেলিম, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, চিন্তক খালেদুর রহমান সাগর, সংগঠক এলান খান চৌধুরী, সংগঠক জুয়েল দাস লেলিন, সংগীতশিল্পী ইসরাত খানম ফ্লোরা, আয়েশা সুলতানা প্রমুখ। সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী কুমকুম সাইদা।

আলোচনায় উঠে এসেছে ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য এক চরম শোক ও বেদনার দিন। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিন। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার
অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদের সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার আমরা।

১৯৫২ সালের এদিনে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠির রক্তচক্ষু ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলে এবং সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় । সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল- বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সর্বস্তরে এখনো বাংলা ভাষা চালু হয়নি
এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয় । বাংলা ভাষার যাত্রাপথ কোন সময়ই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, এখনো বাংলা ভাষার আকাশ থেকে কালো মেঘের ঘনঘটা খসে যায়নি। ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ক্রীতদাসরা এখনো বাংলার বদলে ইংরেজি আওড়াতে বিশেষ সম্মানিত বোধ করেন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত নাটক সিনেমাযর সংলাপে বাংলাকে ব্যঙ্গ করে উচ্চারণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাতে বাংলার সম্মানহানি হচ্ছে।
বিশেষ করে আমাদের এই প্রজন্ম যেভাবে ইংরেজি বা বিদেশি ভাষার প্রতি ঝুঁকছে বর্তমানে আমাদের জন্য এটা একটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। তাছাড়া বিদেশে প্রতিটা দেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
প্রবাসে বেড়ে উঠা সন্তানদেরকে বাংলা শিখানোর জন্য বাবা-মাকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় ।
এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবে স্ব স্ব ধর্মরীতিতে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয় ।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: