রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Sex Cams

বাজারে নিরাপদ দূরত্ব মানছেন না নগরবাসী




প্রতিনিধি, ঢাকাঃ
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে দেশজুড়ে সবকিছু অঘোষিত লকডাউন থাকলেও রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্র ভিন্ন। মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বাজার করছেন। বাজার করতে এসে নিরাপদ দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না নগরবাসী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, তালতলাসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, করোনা থেকে রক্ষায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে শারীরিকভাবে একে অন্যের তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হলেও সেটা মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। তবে কেউ কেউ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না।

শেওড়াপাড়া বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শওকত ওসমান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই কিছু বাজার করেছিলাম সেগুলো দিয়ে এ কয়েকদিন চললাম। ফ্রিজে কোনো মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার নেই। তাই আজ বাধ্য হয়ে বাজারে এসেছি। কিন্তু সারাদেশের চিত্র একরকম আর বাজারে তার পুরোটাই উল্টো দেখছি। নিরাপদ দূরত্ব কেউ মানছেন না। গায়ে গা ঘেঁষে বাজার করছেন। একটু সরতে বললে আড়চোখে তাকাচ্ছেন এতে করে নিজেই বিব্রত হচ্ছি। কেউ কেউ বলছেন এতোই যেহেতু ভয় তাহলে বাজারে না আসলেই হয়।

শওকত ওসমান বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিক্রেতারা কেউ সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। ক্রেতা পেয়েই খুশি তারা। ক্রেতাদের ভিড়ে করোনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।

নগরীর তালতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড় পুরো বাজারে। মাছের দোকান কিংবা সবজির সবখানেই ক্রেতা সমাগম। মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের সঙ্গে কোনো দূরত্ব মানছেন না।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়কগুলো জনশূন্য থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় অলিগলিতে বিভিন্ন বয়সী লোকের আড্ডা। বিশেষ করে মহল্লার টি স্টলগুলোতে তরুণ ও কিশোরদের আড্ডা দেখে মনে হয়েছে তাদের মধ্যে করোনার কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। নিয়ম রক্ষায় মাস্ক অনেকে গলায় ঝুলিয়ে করছে ধূমপান। সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছুই মানছে না তারা।

করোনা ভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নিয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করতে বলছে। আর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছুটি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতেও বলা হয়েছে। প্রশাসনও এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। কোথাও জমায়েত হতে দিচ্ছে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চলছে এক ধরনের অঘোষিত লকডাউন।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: