মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আল্লামা ফুলতলী রহ: এর সুযোগ্য সাত সাহেবজাদা




আল্লামা ফুলতলী রহ.

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল

আল্লামা ফুলতলী রহ: (১৯১৩-২০০৮) বাংলাদেশ ও বহির্বিেশ্বর একজন খ্যাতিমান সুফীসাধক,আলেম,উস্তাযুল কুররা ও পীর ছিলেন। ইলমে হাদীস, ইলমে কিরাত, ইলমে তরিকত এর উঁচুস্থরের একজন বুজুর্গ ছিলেন।তিনি যেমন ছিলেন, তার সন্তানদেরকেও সেভাবে গড়ে তুলেছেন।বাংলাদেশে তার মতো কিংবা তার চেয়েও আরো বড় মাপের অনেক আলেম ছিলেন কিন্তু, তিনি যেভাবে তার প্রত্যেক সন্তানকে ইলমে ওহীর শিক্ষায় আলোকিত করেছেন, সেভাবে কয়জন আলেম তাদের প্রত্যেক সন্তানকে মাদরাসা শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত করেছেন তার ইতিহাস সত্যিই খুব বিরল।আলহামদুলিল্লাহ, পিতা হিসেবে আল্লামা ফুলতলী রহ: একজন সফল পিতা। পারিবারিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, তিনি তার প্রত্যেক সন্তানকে আলেম হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং সুন্নতে নববীর আদর্শে তার পরিবারকে সাজিয়েছেন।আল্লামা ফুলতলী রহ: তার প্রত্যেক সন্তানকে তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তুলেছেন যা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা। আল্লামা ফুলতলী রহ এর প্রত্যেক সাহেবজাদা ই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। ইলম ও আমলে, সুন্নাতে নববীর সুযোগ্য উত্তরসুরী। ধর্ম ও মানবসেবায় তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা অতুলনীয়।

আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী

আল্লামা ফুলতলী রহ: এর সাত সন্তানের সবাই ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত মুহাদ্দিস, মুফতি, মুফাসসির, কারী, হাফিজ এবং এর পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায়ও উচ্চ শিক্ষিত।
নিম্নে সাহেবজাদাদের বর্ণাট্য জীবনের কিঞ্চিৎ অংশ তুলে ধরা হলো :

(১).মাওলানা মো: ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী (বড় সাহেব ফুলতলী ) :
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর বড় ছেলে, তার জন্ম ১৯৪৫ ইং।
তিনি একজন উঁচুস্থরের সুফীসাধক, আলেম, লেখক, গবেষক, অনাথ এতিম ও দুস্থ মানুষের পরম বন্ধু ও আপনজন। সরকারী আলিয়া মাদরাসা ঢাকা হতে কামিল (হাদীস ও তাফসীর বিভাগে) এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি হতে উর্দু সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রী।
*সেক্রেটারি, দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট।
*সাবেক অধ্যক্ষ, সৎপুর কামিল মাদরাসা।
*চীপ পেট্রন, লতিফী হ্যান্ডস ও মুসলিম হ্যান্ডস বাংলাদেশ।
*সভাপতি, লতিফিয়া এতিমখানা।
আরো অসংখ্য প্রতিষ্টানের সভাপতি, পৃষ্টপোষক ও দায়িত্বশীল এর খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মানবসেবায় তার অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত।তিনি এ প্রর্যন্ত প্রায় ২৬ টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।বাংলা সাহিত্যের পাশাপ উর্দু ও ফারসি সাহিত্যও রয়েছে তার দখল।

আল্লামা মুহাম্মদ নজমুদ্দীন চৌধুরী

(২).মাওলানা মুহাম্মদ নজমুদ্দীন চৌধুরী:
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর দিতীয় ছেলে,তার
জন্ম ১৯৫২ ইং ।
তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসা হতে কামিল( হাদীস) বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন।তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়াইজ ও আধ্যাত্মিক সাধক।
*সাবেক অধ্যক্ষ, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসা।
*সাবেক সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিল, ইসলামী ইউনিভার্সিটি কুষ্টিয়া।
*সভাপতি, বাংলাদেশ আনজুমানে মাদারিসে আরাবিয়া।
* সভাপতি, দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট।
এছাড়াও তিনি আরো অনেক দীনি প্রতিষ্টানের দায়িত্ববহন করে যাচ্ছেন।তার সুযোগ্য সন্তান, মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

 

মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী

(৩).মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী:
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর তৃতীয় ছেলে, তার জন্ম ১৯৫৫ ইং।
তিনি গাজিমুড়া কামিল মাদরাসা লাকসাম হতে কামিল (হাদীস) বিভাগে উচ্চ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি সিলেটের একজন খ্যাতিমান সালিসি ব্যক্তিত্ব।
*উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ।
*সাবেক সেক্রেটারি, লতিফিয়া এতিমখানা।
* উপদেষ্টা, আনজুমানে আল ইসলাহ।

মুফতি মাওলানা মো: গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী

(৪).মুফতি মাওলানা মো: গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী :
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর চতুর্থ ছেলে,তার জন্ম ১৯৫৯ ইং। তিনি ইছামতি কামিল মাদরাসা হতে কামিল পাশ করেন। তিনি একজন শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ফকীহ ,লেখক ও ওয়াইজ।
* মুফতি, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসা।
*চেয়ারম্যান, ফুলতলী কমপ্লেক্স।
*চেয়ারম্যান, দারুল ফিকর ওয়াল ইফতাহ আল- ইসলামী বাংলাদেশ।
তিনি মুফতি সাহেব নামেই খ্যাত। ফিকহী মাসয়ালা- মাসাইলের ক্ষেত্রে তিনি খুবই পারদর্শী। তার অধীনে নিয়মিত ফতোয়া কার্যক্রম পরিচালিত হয়।প্রবীণ ওয়াইজ হিসেবে তিনি সর্বমহলে সম্মানিত একজন বিজ্ঞ খতিব।

(৫).মাওলানা মোহাম্মদ কমর উদ্দিন চৌধুরী:
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর পঞ্চম ছেলে,তার জন্ম ১৯৬২ ইং।
তিনি ঢাকা সরকারী আলিয়া মাদরাসা হতে কামিল (হাদীস ও আদব) বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন ।এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি হতে আরবী ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
*প্রিন্সিপাল,শাহজালাল দারুসসুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা, সিলেট।
*মহাসচিব, আনজুমানে মাদারিসে আরাবিয়া বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, মাদরাসা শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষকদের উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

(৬).হাফিজ মাওলানা মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন চৌধুরী :
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর ষষ্ট ছেলে,তার জন্ম১৯৬৪ ইং ।তিনি ফুলতলী কামিল মাদরাসা হতে কামিল (হাদীস) পাশ করেন এবং তিনি একজন হাফিজে কুরান।তিনি অত্যন্ত সাধাসিধে জীবন -যাপনে অভ্যস্ত।
*জেনারেল সেক্রেটারি, ইয়াকুবিয়া হিফজুল কুরান বোর্ড, বাংলাদেশ।

(৭).মাওলানা মুহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী:
তিনি আল্লামা ফুলতলী রহ: এর সপ্তম ছেলে, তার জন্ম ১৯৭০ ইং।তিনি বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসা হতে কামিল (হাদীস) এবং সরকারী আলিয়া মাদরাসা ঢাকা হতে কামিল (তাফসীর) বিষয়ে ডিগ্রী লাভ করেন।তিনি দেশের একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদ, লেখক, সম্পাদক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে খ্যাতিমান।
* সভাপতি, আনজুমানে আল ইসলাহ।
*চেয়ারম্যান, ওয়েসিস হাসপাতাল সিলেট।
*সদস্য, জাকাত বোর্ড (ইফা)।
*সিন্ডিকেট সদস্য, ইসলামী আরবী ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
*নাজিম,দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট, প্রধান কেন্দ্র।
*ট্রাষ্টি, দারুল হাদীস লতিফিয়া, লন্ডন।
ইসলামী আরবী ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্টার অন্যতম মহানায়ক ছিলেন তিনি।ইসলাম ও মুসলমানের সার্থে দেশের সবকটি জাতীয় আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছ।

আসলে ক্ষুদ্র পরিসরে মহান ব্যক্তিদের বর্ণাট্য জিবনের সামান্য কিছু আলোচনা করা ঠিক হলো কিনা জানিনা! ইনশাআল্লাহ,আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দিলে আগামীতে তাদের প্রত্যেকের বর্ণাট্য জীবনের নানাধিক নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করব।
আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের নেক হায়াত ও সুস্ততা দান করুন।এবং তাদের সকল খেদমতকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক: majharul276@gmail.com
*তথ্যসূত্র :হযরত আল্লামা মো: আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী – আহমদ হাসান চৌধুরী (ইফা প্রকাশিত)।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: