নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ও রাস্তাঘাটে ১০৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে জরুরি চিকিৎসাসেবা (SAMU)। তবে এসব মৃত্যুর সবগুলোই সরাসরি তাপপ্রবাহজনিত কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
২১ জুনের দিকে শুরু হওয়া এ তাপপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েক দিন ধরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।
ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এবারের তাপপ্রবাহ সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম তীব্র। দেশের বহু এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসোস (Pissos) এলাকায় ৪৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার অন্যতম। প্যারিসেও তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপক চাপে পড়েছে। প্যারিস ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হাসপাতালগুলোর জন্য জরুরি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ORSAN-এর তৃতীয় স্তর চালু করেছে। অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার স্থগিত, অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং মেডিকেল রিজার্ভ সক্রিয় করা হয়েছে।
শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, তীব্র গরমে দেশের জনজীবনও বিপর্যস্ত। হাজার হাজার স্কুলের পাঠদান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসে একদিনেই ২৫টি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। জরুরি সেবার ফোনকলও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্ত পর্যন্ত ফ্রান্সের অনেক এলাকায় তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে। এরপর বজ্রবৃষ্টি ও শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।




