সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Sex Cams

স্বাগতিক নয়, তবুও জ্বরে কাঁপছে প্যারিস




Screenshot

শাহ সুহেল আহমদ :

আগামী মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই। প্যারিসের ঘড়িতে তখন রাত, কিন্তু টেক্সাসের আর্লিংটনে এটি বিকেল — সেখানকার এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স আর স্পেন, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল। এই একটা ম্যাচ ঘিরেই এখন গোটা প্যারিস যেন নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে।

স্টেডিয়াম নেই এই শহরে। ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোয়, প্যারিসে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচও নেই। তবু ফ্রান্স যতই এগোচ্ছে, শহরটা ততই নিজের ভেতরে একটা সমান্তরাল বিশ্বকাপ বানিয়ে ফেলছে।

মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে

গত বৃহস্পতিবার ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোয় মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পার হয়েছে ফ্রান্স। এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পুরনো হিসাব-নিকাশও — ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ফ্রান্স একই ব্যবধানে হারিয়েছিল মরক্কোকে। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, অলিস আর বার্কোলাকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ এবার প্রতিরক্ষা-নির্ভর মরক্কোর বিপক্ষে ফের সফল হয়েছে। পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৪ বার বল পাঠিয়ে আর নিজেদের জালে মাত্র ২ গোল হজম করে ফ্রান্স এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচিত।

ফরাসি ফুটবলের দীর্ঘ ছায়া

ফ্রান্সের এই উত্থান নতুন কিছু নয় — বরং এটা একটা ধারাবাহিকতার অংশ। ১৯৯৮ সালে নিজের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স, জিদানের নেতৃত্বে। তারপর ২০০৬ সালে ফাইনালে ওঠা, ২০১৮ সালে রাশিয়ায় দ্বিতীয় শিরোপা — সেবার তরুণ এমবাপ্পের হাত ধরে নতুন এক প্রজন্মের উত্থান দেখেছিল ফুটবলবিশ্ব। ২০২২ কাতারে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হারলেও, সেই ম্যাচ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল হিসেবে গণ্য হয় — এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক তখনও ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে।

এই ইতিহাসের সুতো ধরেই এবারের দলটাকে দেখছেন সমর্থকরা। এমবাপ্পে এখন আর তরুণ প্রতিভা নন, বরং দলের নেতৃত্বে থাকা এক পরিণত তারকা। তার সঙ্গে দেম্বেলে, অলিস, বার্কোলার মতো নাম যোগ হয়ে তৈরি হয়েছে আরেকটা “সোনালি প্রজন্ম” — এমন একটা দল, যাদের কাছে ফাইনালে ওঠা শুধু প্রত্যাশা নয়, রীতিমতো দাবি।

যখন শহরই হয়ে ওঠে গ্যালারি

সেমিফাইনালের রাতে প্যারিসের ছবিটা তাই সহজেই অনুমেয়। শহরজুড়ে গড়ে ওঠা ফ্যান জোনগুলোয় এখন তুঙ্গে প্রস্তুতি — দশম আরোঁদিসমঁর একটা বিশাল বাগানে তৈরি ফ্যান জোন, লংশ্যাম্প রেসকোর্সের জায়ান্ট স্ক্রিন, আর আইফেল টাওয়ারের ষাট মিটার উঁচুতে তৈরি সেই অভাবনীয় “ঝুলন্ত” ফ্যান জোন — সবখানেই এখন একটাই আলোচনা: মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্স পারবে তো?

কোয়ার্টার ফাইনালের পর প্যারিস সিটি হল “La Fan zone, c’est Paris” নামে একটা বিশেষ উদ্যোগ চালু করেছে — লে মারে আর লা রোকেতের মতো এলাকা রাত আটটা থেকে গাড়িমুক্ত পথচারী-এলাকায় পরিণত হচ্ছে, রেস্তোরাঁ খোলা থাকছে রাত দুটো পর্যন্ত। মধ্যরাতের ম্যাচ সামলাতে এতদিন যে দ্বিধা ছিল প্রশাসনের, ফ্রান্সের টানা এগিয়ে চলা সেটা ভেঙে দিয়েছে।

ফাইনালের হাতছানি

মঙ্গলবারের ম্যাচে জিতলে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে উঠবে ফ্রান্স, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের বিজয়ী দল। প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায়, ছাদে ছাদে তাই এখন একটাই প্রার্থনা — ১৯৯৮ আর ২০১৮-র মতো আরেকটা রাত, যেখানে শহরটা মাঠে না থেকেও পুরো উৎসবটা নিজের করে নেবে।

ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স, আর সেই ভার হালকা করার দায়িত্ব যেন তুলে নিয়েছে প্যারিসের প্রতিটা রাস্তা, প্রতিটা ক্যাফে, প্রতিটা জেগে থাকা রাত।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: