শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Sex Cams

ফ্রান্সে আবারও ধেয়ে আসছে তীব্র তাপদাহ, ৪০ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে তাপমাত্রা




নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাত্র কয়েকদিন আগে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ফ্রান্সে আবারও নতুন করে তীব্র গরমের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স (Météo-France)। আগামী রোববার থেকে দেশজুড়ে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করবে এবং সপ্তাহের শুরুতে অনেক এলাকায় তা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের কিছু স্থানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ এবং পশ্চিম ইউরোপের ওপর স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে এই নতুন তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল, রোন উপত্যকা, অক্সিতানি, প্রোভঁস-আল্প-কোত দাজুর এবং রাজধানী প্যারিসসহ ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলেও অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হবে।

এর আগে জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সে চলতি বছরের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। দেশটির ৯০টিরও বেশি বিভাগে (Département) তাপদাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। অনেক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে এবং কয়েকটি এলাকায় নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে ওঠে। গরমের কারণে হাজার হাজার স্কুলে ক্লাস স্থগিত বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয় এবং হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, নতুন এই তাপপ্রবাহ কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও অনেক এলাকায় ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না, যা মানবদেহের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের পাশাপাশি রাতেও পর্যাপ্ত শীতলতা না থাকায় বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক পরা এবং একা বসবাসকারী বয়স্ক স্বজন বা প্রতিবেশীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে তীব্র গরমের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। কয়েকটি অঞ্চলে ইতোমধ্যে বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। দমকল বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বনাঞ্চলে আগুন জ্বালানো ও কিছু এলাকায় প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এমন চরম আবহাওয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপদাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য নতুন করে কমলা (Orange) বা লাল (Red) সতর্কতা জারি করা হবে।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: