নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফ্লোরঁস শহরে ১১ বছর বয়সী শিশু লিয়ান্নার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে ভিন্যু-সুর-সেনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ‘Solidarité Asie France (SAF)’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
গত ২৯ মে নিখোঁজ হওয়া লিয়ান্নার মরদেহ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ৭ জুন উদ্ধার করে ফরাসি পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত শিশুটির স্কুল-সঙ্গীর বাবা বলে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর ফ্রান্সজুড়ে শিশু নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন সমাজে অবাধে চলাফেরা করতে পেরেছিলেন। সচেতন নাগরিকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার আরও কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।
লিয়ান্নার স্মরণে আয়োজিত মানববন্ধনটি গার দ্য ভিন্যু-সুর-সেন থেকে মেয়র কার্যালয় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন SAF-এর সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি তাওহিদ আহমেদ, জাহিদ আহমেদ, খালেদসহ সংগঠনের অসংখ্য সদস্য। কর্মসূচিতে ভিন্যু-সুর-সেনের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ফরাসি পুলিশের একটি বিশেষ প্রোটোকল দল উপস্থিত ছিল।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে SAF-এর প্রেসিডেন্ট নয়ন এনকে বলেন, “আমরা লিয়ান্না হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে অতীতে যেসব শিশু নির্যাতন, সহিংসতা ও হত্যার শিকার হয়েছে, তাদের সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” অন্যান্য বক্তারাও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রতিনিধিরা SAF-এর এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিশু নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ ধরনের নাগরিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। পরে লিয়ান্নার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




