শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুই উদ্যোগে বদলে গেল সিলেটের এক এলাকার চিত্র




নিজস্ব প্রতিবেদক:

সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পুরো বাংলাদেশেই বাস্তবায়িত হচ্ছে লিড বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট। তারই অংশ হিসেবে সিলেটের টুলটিকরের মধুবাগ থেকে চামেলীবাগ “নিরাপদ পরিবেশ ” ও “শিক্ষাই আমার অধিকার ” শীর্ষক দুটি সামাজিক উদ্যোগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়া বাংলাদেশের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে দুই উদ্যোমী দল এই এলাকায় কাজ করছে।করোনা ভয়াল থাবা এলেও তারা থেমে থাকে নি,সমাজের উন্নয়নে কাজ করেছে নিরলসভাবে।এক্ষেত্রে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়েছে তারা।

“নিরাপদ পরিবেশ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা চৌধুরী ও তার মতো স্বপ্নবাজ ১২ তরুণ মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। তাদের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল যে রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা একটি ব্যবস্থা করা যাতে মানুষের চলাচল এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো যায়।

ডাস্টবিনের অভাব, পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে। সমাধানের লক্ষ্যে দলটি স্থানীয় জনগণের সহায়তা নেয়। পরে তারা কয়েক দফা স্থানীয় কাউন্সিলর অফিসে যোগাযোগ করে এবং তিনি তাদেরকে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।তাছাড়া তারা তাদের কাজের অগ্রগতি দেখতে নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করে। ইতোমধ্যে এলাকার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে এবং জনদুর্ভোগও লাঘব হয়েছে।

একই এলাকায় আরো একটি সামাজিক উদ্যোগ পরিকল্পনা “শিক্ষাই আমার অধিকার” বাস্তবায়িত হচ্ছে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদা জাহিন প্রিমা ও তার দলের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায়। করোনাকালীন সময়ে এই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ে যায়,ফলশ্রুতিতে তাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়।অভিভাবকদের অসচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার জন্য এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোগ গ্রহণের পরে মাঠপর্যায়ে কাজে নেমে পড়ে দলটি। প্রথমে তারা স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে।অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে সন্তানদের আবারো স্কুলে পাঠানোর জন্য উদবুদ্ধ করে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা লিফলেট বিতরণ, দেয়ালিকা প্রদর্শন ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।আশার ব্যাপার হলো, ঐ এলাকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরতে শুরু করেছে এবং অভিভাবকরা পড়াশোনার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন।

মধুবাগ এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোতালেব মিয়া বলেন, ” দুটি উদ্যোগই আমাদের এলাকায় খুবই প্রয়োজন ছিলো, তরুণদের কার্যক্রমের কারণেই এখানে পরিবেশের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়েছে “।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: