শনিবার, ২২ জুন ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজত জয়ন্তী পালন করবে ইউনেস্কো




ডেস্ক রিপোর্ট :

আবারও জয় হলো বাংলার। এবার ইউনেস্কোর নির্বাহী পর্ষদের সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবে, ৬৩ দেশের সমর্থনে পাশ হলো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজত জয়ন্তী উৎসব’।

বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজত জয়ন্তী পালন করবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক শীর্ষ সংস্থা ইউনেস্কো। শুক্রবার সংস্থাটির প্যারিস্থ সদর দপ্তরে চলমান নির্বাহী পর্ষদের ২১৯-তম সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। বাংলাদেশের উত্থাপিত এ প্রস্তাব ৬৩ টি সদস্য রাষ্ট্র সমর্থন করে। 

এ সিদ্ধান্তে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রচার কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়ষী প্রশংসা করেছে নির্বাহী পর্ষদ। এছাড়াও ভাষার সার্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে ইশারা ভাষাসমূহকে সকল মাতৃভাষার মত সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সাথে সংরক্ষণের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইউনেস্কোর সদর দপ্তর, আঞ্চলিক ও স্থানীয় দপ্তরসমূহে দিবসটির রজত জয়ন্তী পালনের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাহী পর্ষদ। এছাড়াও সংস্থাটির সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজত জয়ন্তী পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তটি নির্বাহী পর্ষদের অনুমোদন লাভের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা ইউনেস্কোর সকল সদস্য রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে ইশারা ভাষাকে মাতৃভাষার সমান গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে ভাষাকে সার্বজনীনতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত এই সিদ্ধান্তকে মাননীয় প্রধানমত্রীর নেতৃত্বে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাতৃভাষা ও ইশারা ভাষার সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকার আরেকটি স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছর মাতৃভাষা সংরক্ষণে দেশে ও বিদেশে বিশদ পরিসরে নানাবিধ কর্মসূচী গৃহীত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক উদযাপনকে বাংলাদেশের জনকূটনীতির একটি অনন্য সাফল্য হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের মহান ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার একটি সুবর্ণ সুযোগ বলে তিনি মনে করেন।

আগামি ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালনের পূর্ব মুহুর্তে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে ঘোষিত দিবসের রজত জয়ন্তী পালনের সিদ্ধান্তে উৎফুল্ল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রবাসীসহ সর্বস্তরের বাংলাদেশি নাগরিকেরা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর ৩০-তম সাধারণ পরিষদের সভায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: