রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম ঈদ পর্যন্ত বন্ধ




  তারিকুল ইসলাম

করোনাভাইরাসের কারণে সব দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আগামী ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ সময়ে কোনো পর্যায়ের কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা যাবে না। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা কেউ উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দলটি।

এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব এখন নিরুপায়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কে কখন আক্রান্ত হয় বলা যায় না।

এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। দলীয় ফোরামে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। তাই সময় আরও বাড়ানো হবে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, চলতি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে রোজা শুরু, মে মাসে ঈদ। সব মিলিয়ে ঈদের আগে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। দু-একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হবে। করোনা প্রতিরোধে করণীয় এবং জনসচেতনতামূলক প্রথম লিফলেট বিতরণ শুরু করে বিএনপি।

জনসমাগম এড়িয়ে দলীয় সভা-সমাবেশও স্থগিতের পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় কোনো শোডাউন না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২২ মার্চ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘দেশব্যাপী বিএনপির সব পর্যায়ের চলমান কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’ এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করেন জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাফর আলী মিয়া।

এক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহানের অনুমোদনও নেননি তিনি। পরে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রে অভিযোগ করলে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার আহবায়ক কমিটি স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিএনপির হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও করোনার এ মহামারীতে দেশের গরিব ও দুস্থ মানুষের পাশে থাকার জন্য জেলা নেতাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে ভিড় না করে সাধ্যমতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির জেলা শাখা ও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন যুগান্তরকে বলেন, আমার জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দুস্থ, অসহায়, দিনমজুরের তালিকা করেছি। তালিকা অনুযায়ী আমরা সাধ্যমতো চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি।

এদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া নেতাদেরও নিজ এলাকায় থেকে গরিব ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ নেতা নিজ এলাকায় যাননি। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনা পেয়ে যারা এলাকায় গিয়ে কাজ করছেন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেন, তার এলাকায় তরুণদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে দিয়েছি। তাদের দিয়ে স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করছি। একই সঙ্গে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে গত নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয় এলাকার মানুষ আর তাকে চোখে দেখেনি। আমি এ এলাকার মানুষ। তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ১৬ দিন ধরে স্যানিটাইজার ও মাস্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করছি। পাশাপাশি কয়েক হাজার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।

বিএনপি হাইকমান্ডের নির্দেশনা পেয়ে ছাত্রদলের রাজশাহী, নড়াইল, গাজীপুর, জামালপুর, জয়পুরহাট, হবিগঞ্জসহ অধিকাংশ শাখার নেতারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সড়কে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করাসহ গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে রাজধানীর অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশ ও জাতির এ ভয়াবহ ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিটকে যথাসম্ভব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সারা দেশে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহ দুর্যোগে গরিব ও দুস্থদের পাশে থাকার জন্য দেশব্যাপী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে সব সাংগঠনিক জেলা শাখার নেতারা গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করছেন।

 

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: