শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মার্কেট খুলতেই কেনাকাটা শুরু




টানা ৪৪ দিন পর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। রোববার প্রথম দিনে খুলনা ও যশোর শহরে মানুষের ঢল নেমেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড় ছিল। সিট কাপড়ের দোকানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা যায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। হাজারো মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শহরে কেনাকাটা করেছে। ফরিদপুর ও বগুড়ার শেরপুরে একই চিত্র ছিল।

তবে চট্টগ্রাম দোকানপাট ও শপিংমল না খোলার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। দোটানায় রয়েছে রাজশাহীতে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

যশোর : ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু বলেছেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আমরা শনিবার মানববন্ধন করেছি। আজ শহরে বের হয়ে দেখলাম মানুষের ঢল। একজন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর উঠে যাচ্ছে। সরকার জনগণকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে। আর জনগণ সচেতন নয়; তারা আত্মহুতি দিতে প্রস্তুত। এর ফল জনগণ ও সরকারকেই নিতে হবে। জেলা প্রশাসনের শর্তানুযায়ী অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। ছিল না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব। কেনাকাটার অজুহাতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

রাজশাহী : করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজশাহী নিউমার্কেট খুলতে চান না ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সভাপতি দোকানপাট খুলতে চান। রাজশাহী নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক দোকানপাট খোলা নিয়ে এমন অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যারা দোকান খুলতে চান তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের উনকানি দিয়ে বিক্ষোভও করিয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিউমার্কেটের সামনে কিছু ব্যবসায়ী এই বিক্ষোভ করেন। পরে শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গিয়ে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলেন। তখন ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ বন্ধ করেন। এর আগে শনিবার রাতে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি সেলিম উল্লাহ মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মুনজুর হোসেন চুমকু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোববার থেকে তারা দোকানপাট খুলবেন কি না তা নিয়ে তারা সভা করেছেন। সভায় সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির আরও সাতজন দোকান না খোলার পক্ষে অবস্থান নেন।

খুলনা : মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড় এলাকার ১৭টি মার্কেট গতকাল রোববার থেকে খোলা হয়েছে। প্রথম দিনেই মার্কেটগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিটি মার্কেটেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এসব মার্কেটে নামমাত্র স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে কারোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কেট খোলা হলেও খুলনার কেডিএ নিউমার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার এক বৈঠকে তারা ঈদের আগে নিউ মার্কেট না খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া নগরীর অন্যান্য শপিংমল এখনও খোলেনি।

চট্টগ্রাম : রোববার থেকে দোকান-পাঠ ও শপিংমল সীমিত আকারে খোলার সরকারি ঘোষণা থাকলেও চট্টগ্রামে কোনো ধরনের দোকান-পাট ও শপিংমল খোলেনি। বিভিন্ন মার্কেট, ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির নেতারা ঈদের আগে দোকান-পাট ও মার্কেট না খোলার যে সিদ্ধান্ত ৯ মে জানান গতকাল থেকে তারা তা কার্যকর করেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে করোনা ঝুঁকি যেমন কমেছে তেমনি সাধারণ মানুষও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তবে বড় বড় শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ থাকলেও রাস্তাঘাটের খুচরা কাপড়ের দোকান, কিছু কিছু ফ্যাশন হাউস সীমিত আকারে খুলেছে। এসব দোকান-পাট খুললেও সেখানে দলে দলে লোকসমাগমের সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুর : ফরিদপুরের শহর ও উপজেলাগুলোতে চেম্বারের ১৬ শর্তে খুলে দেয়া হল মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। রোববার শহরের ফরিদপুর নিউমার্কেট, তিতুমীর বাজার, চকবাজার, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসহ শহরের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটায় ভিড় জমিয়েছে। ছিল না কোনো নিয়মশৃঙ্খলার বালাই। কিছু কিছু স্থানে হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা দেখা গেলেও তা ছিল খুবই কম।

শেরপুর (বগুড়া) : রোববার বেলা ১১টায় শেরপুরের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, রাবেয়া কমপ্লেক্সের মোবাইল মার্কেট, জাহানারা কমপ্লেক্স, মতিউর রহমান মার্কেট, মোহাম্মাদ আলী কমপ্লেক্স, শেরপুর প্লাজা, শেরশাহ নিউমার্কেট, উত্তরা প্লাজা, ডক্টরস কমপ্লেক্স, সৈয়দা কমপ্লেক্স ও ডক্টর কমপ্লেক্সের বর্ধিত অংশে জুতার দোকানগুলোতে উপচে পড়া মানুষের ভিড়। সামাজিক দূরত্ব না মেনে কেনাকাটা করছেন তারা। বেশির ভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। মার্কেটের গেটে পরীক্ষা করা হচ্ছে না তাপমাত্রা। গেটের সামনে সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকলেও তদরকি করার কেউ না থাকায় ব্যবহার করছেন না কেউই। সৌজন্যঃ যুগান্তর

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: