সোমবার, ১১ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Sex Cams

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করছে বাংলাদেশ




স্টাফ রিপোর্টার:

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় শিক্ষা খাতে প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই রাজধানীর একটি হোটেলে তিনদিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ইউনেসকো, ইউনেসকো ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশনাল প্ল্যানিং (আইআইইপি), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালা ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ’ (সিএসইএসআই)-এর আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১০ থেকে ১২ মে পর্যন্ত চলা কর্মশালায় জাতীয় ও উপ-জাতীয় পর্যায়ের ৩০ জনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা পরিকল্পনাবিদ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।

রোববার কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং কোথায় আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন সহজ হবে।”

অনুষ্ঠানে ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু ঝুঁকি শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সক্ষম, সেটিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বদরুন নাহার, এনডিসি শিক্ষা খাতে জলবায়ু তথ্যব্যবস্থা ও জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের নটর ডেম গ্লোবাল অ্যাডাপটেশন ইনডেক্স অনুযায়ী, ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮তম। এছাড়া জাতীয় শিক্ষা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালেই প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার প্রভাবে স্কুলে উপস্থিতি, শিক্ষা অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। ইউনেসকো-আইআইইপির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলবায়ু সহনশীলতায় বাংলাদেশের নীতিগত ভিত্তি শক্তিশালী হলেও শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষক উন্নয়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু অভিযোজন এখনো পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

আয়োজকরা জানান, এই কর্মশালা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের জন্য প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রণয়নের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর শিক্ষা নীতি, টেকসই অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের ভিত্তি তৈরি হবে।

সম্পাদক: শাহ সুহেল আহমদ
প্যারিস ফ্রান্স থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: